• বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Find us in facebook
সর্বশেষ:
বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত ৭টায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল মা-মেয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে লোডশেডিংয়ের রুটিন করার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ডিভাইস আমরা রপ্তানি করব: প্রধানমন্ত্রী

দুই সন্তানের বাবার প্রেমে সাড়া দিয়েছে প্রতিবন্ধী কিশোরী     

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

Find us in facebook

Find us in facebook

দুই সন্তানের জনকের প্রেমে সাড়া দিয়ে বাড়ি ছেড়ে বিপাকে পড়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। অপ্রাপ্ত বয়স ও অভিভাবক না থাকায় বিয়ে থেমে গেছে তার। এ অবস্থায় এখন প্রেমিকের বাড়িতেই অবস্থান করতে হচ্ছে কিশোরীকে। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চর নাজিরদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রেমিক আলমগীর হোসেন (৩০) ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে তার।

রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চর নাজিরদহ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ওই কিশোরী আলমগীর হোসেনের বাড়িতেই অবস্থান করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগে নোয়্খাালীর সেনবাগ উপজেলায় দিনমজুরের কাজ করতে যান আলমগীর হোসেন। এ সময় সেখানে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন আলমগীর। স্ত্রী ও দুই সন্তানের কথা গোপন রেখে মাস খানেক আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়ে যান।

গত শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) আলমগীর ওই কিশোরীকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফেরেন। অপ্রাপ্ত কিশোরীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গেলে ঘটে বিপত্তি। কোনোভবেই দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে চাইছেন না আলমগীরের প্রথম স্ত্রী। পরে রাতে স্থানীয় লোকজন অপ্রাপ্ত ওই কিশোরীকে ও আলমগীরকে নিয়ে যান ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় ও অভিভাবক উপস্থিত না থাকা এবং থানা পুলিশ অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নিতে অপারগতা জানান পরিষদের চেয়ারম্যান। অবশেষে ওই কিশোরীকে আলমগীরের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

কিশোরী মেয়েটি বলে, ‘আলমগীর অবিবাহিত বলে আমাকে জানিয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে এসে জানতে পারি তার স্ত্রী ও দুটি সন্তান রয়েছে।’

নাজিরদহ গ্রামের বাসিন্দা দুদু মিয়া বলেন, ‘আলমগীর ও কিশোরীর নাকি বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়ের কোনো কাগজপত্র নেই। এছাড়া মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক। শনিবার রাতে গ্রামের লোকজন ছেলে ও মেয়েকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। কিন্তু পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কোনো সমাধান করতে না পারায় অবশেষে ওই কিশোরীকে আলমগীরের জিম্মায় ছেড়ে দেনে।

তিনি আরও বলেন, বিয়ে ছাড়াই একটি মেয়ে দুদিন ধরে ছেলের বাড়িতে অবস্থান করছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘটনা শুনে চলে যায়। মেয়েটিকে উদ্ধারে কারও কোনো তৎপরতা নেই। মেয়েটির বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে প্রতারণা করে নিয়ে গেছে আলমগীর।’ তবে তিনি এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।

এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি ওই মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করতে চাই। কিন্তু বড় বউ রাজি হচ্ছে না।’

হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ বলেন, ‘গত শনিবার রাতে ছেলে ও মেয়েকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে গ্রামের লোকজন। মেয়েটি অপ্রাপ্ত হওয়ায় বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নিতে অপারগতা জানায়। পরে রাতেই মেয়েটিকে ছেলে পক্ষের লোকজন নিয়ে যায়।’

কাউনিয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত ) সেলিমুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
কে/

Place your advertisement here
Place your advertisement here