ব্রেকিং:
পাঁচ বিভাগে পাঁচ বার্ন ইউনিট স্থাপনসহ প্রায় ৭ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
  • বুধবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৮

  • || ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

Find us in facebook
সর্বশেষ:
ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধন এখন আরো শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী বাল্যবিয়ে মুক্ত হলো কুড়িগ্রামের রাজারহাট এক কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধার ধান-চালের বাজার তদারকি জোরদারের নির্দেশ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইউনিট পাচ্ছে ৫ মেডিকেল হাসপাতাল

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তিস্তাপাড়ের কৃষকরা 

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০২১  

Find us in facebook

Find us in facebook

বন্যা ও খরার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলতে হয় তিস্তাপাড়ের কৃষকদের। কারণ, এখানকার কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি বারবার ধাক্কা খায় বন্যায়। এ বছরও কয়েক দফার সেই বন্যায় তা আরও বেড়েছে। এতে কৃষকের আশার গুড়ে বালি পড়েছে। সবশেষ গত অক্টোবরের আকস্মিক বন্যায় তিস্তা-তীরবর্তী তিন উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীভাঙনের সঙ্গে উঠতি ফসলের ওপর বালুচাপা আর কোথাও ভাঙনে ভেসে গেছে আবাদি জমি।

এখন কার্তিকের শেষভাগে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে তিস্তা। মরা তিস্তার বুকে জেগে উঠেছে ধু-ধু বালুচর। যৌবনহারা তিস্তার বালুময় বুক সবুজ হতে শুরু করেছে। আর সেই সবুজে ফসল বুনতে শুরু করেছেন কৃষকেরা। কপালে চিন্তার ভাঁজ থাকলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।

এবার তিস্তাবেষ্টিত গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় এনেছে সরকার। তিন উপজেলায় এবারের বন্যায় ২ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমির রোপা আমন, ৩৫ হেক্টর জমির কাঁচামরিচ, ৬২ হেক্টর জমির চিনা বাদাম পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। এতে ৩৪৫ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৯ হেক্টর জমির আমন, মরিচ ৩০ হেক্টর, চিনা বাদাম ৬০ ও শাকসবজি ২৬ হেক্টর রয়েছে। এ ছাড়া নষ্ট হয়েছে বেশ কিছু আলুখেত।

সরেজমিনে গঙ্গাচড়া উপজেলার চর ইচলী, চল্লিশসাল, মর্ণেয়া, বিনবিনা, গজঘন্টা এবং পীরগাছা উপজেলার শিবদেব, ছাওলা ও গাবুড়া চরসহ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দেখা গেছে, তিস্তার আকস্মিক বন্যার পর পানি নামার ক্ষতচিহ্ন ভেসে উঠেছে। আশপাশে এখনো পড়ে আছে বিধ্বস্ত বাড়িঘর। তিস্তার বালুতে চাপা পড়ে আছে কৃষকের ফসলি খেত। কৃষকরা কাঁচি ও কোদাল দিয়ে সেই বালু সরানোর চেষ্টা করছেন। পানি সরে যাওয়ার পর কিছু ফসলে পচন দেখা দিয়েছে। আবার কোথাও কোথাও শীতকালীন সবজির খেতসহ মিষ্টিকুমড়া, আগাম আলুসহ নতুন ফসল রোপণ করছেন কিষান-কিষানিরা।

কৃষকরা বলছেন, বালুচর এখন তাদের জন্য আশীর্বাদ। এই চরের বালু মাটিতেই ফলবে সোনার ফসল। ঘুরে যাবে করোনা আর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভাগ্যের চাকা। সবজিখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত জরিনা বেগম বলেন, চরের মধ্যে আলু, কুমড়া, ভুট্টা লাগাছি। আলু তোলার পর বাদাম লাগামো। পানি না থাকাতে কষ্ট আছে। কিন্তু বালাতে কোনো রকমে চাষাবাদ শুরু করা লাগে। তা ছাড়া হামার মতো গরিবের আর কোনো উপায় নাই।

তারা বলছেন, অসময়ে তিস্তার আকস্মিক বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বেশী। তাদের ধান, আলু, সবজি, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দেনায় পড়েছেন। তার পরেও আবার নতুন করে চাষাবাদ শুরু করেছেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার চরাঞ্চলে ফসলের আবাদ ভালো হয়েছিল। আকস্মিক বন্যায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাধারণত এ সময় বন্যা হয় না। তবে এখন কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছেন। তাদের কৃষি অধিদফতর থেকে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


চর ইচলীর কৃষক মজিদ মিয়া বলেন, ভালো বীজ পাওয়া যায় না। এ্যলা বীজের সমস্যা। তারপরও মিষ্টিকুমড়া লাগাইছি দুই একর মাটিত। বর্তমানে সারের দাম বাড়ছে। বস্তাতে দেড়-দুই শ টাকা বেশি লাগে। সরকার যদি এটা নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে হামারগুল্যার আবাদ সুবাদ করতে সুবিধা হইবে। 

পীরগাছা উপজেলার ছাওলা গাবুড়া চরের কৃষক হযরত আলী জানান, বাজারে আগাম মরিচ বিক্রি করে লাভের আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তিস্তার আকস্মিক বন্যায় তার সেই আশা শেষ হয়ে গেছে। হতাশ হযরত আলী আবার নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

গত ২০ অক্টোবর উজানের ঢলে তিস্তা অববাহিকায় বিপৎসীমার এযাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙে ৬০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছিল। পানির স্রোতে তিস্তা-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে দেখা দেয় আকস্মিক বন্যা। এ সময় গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৩৫টি, কাউনিয়া উপজেলায় ১০টি ও পীরগাছা উপজেলার ৫টি গ্রাম হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে ছিল। ধান, আগাম আলু, মরিচ ও চিনা বাদাম, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। চার দিনের মাথায় ফুলেফেঁপে ওঠা তিস্তার বুক থেকে পানি নেমে যায়।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, রংপুরে রবি মৌসুমে ছয়টি ফসলের যে কোনো একটির জন্য ৩৫ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার প্রায় ১০ হাজার কৃষক এই প্রণোদনার আওতায় আসবে। এতে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ফসলের সার ও বীজ সহায়তা দেওয়া হবে।

Place your advertisement here
Place your advertisement here