• বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৯ ১৪২৯

  • || ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Find us in facebook
সর্বশেষ:
সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কন্যা শিশুদের যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস পুরনো: সুলতানা কামাল নির্বাচন সামনে রেখে উসকানিমূলক তৎপরতা চলছে: ওবায়দুল কাদের করতোয়ায় নৌকাডুবি: ৮ কারণ দেখিয়ে প্রতিবেদন দিল তদন্ত কমিটি হাতীবান্ধায় নানার বাড়ি বেড়াতে এসে প্রাণ গেল অপূর্বের

১৪ বছর ঝাঁলমুড়ি বিক্রি করে সংসার চলে মর্জিনা বেগমের!

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২১  

Find us in facebook

Find us in facebook

‘১৪ বছর থাকি (ধরে) দোকান কোনা করি কোনও রকম চলি। বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিছুই হয় নাই। ছাওয়ার ঘর (ছেলে-মেয়ে) করিমিলি নিজে খায়। অসুস্থ স্বামীক নিয়া বিপদে আছুং (আছি)। কাইয়ো (কেউ) হামাক দ্যাখে না’- এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছিলেন তিস্তা পাড়ের ঝাঁলমুড়ি বিক্রেতা মর্জিনা বেগম (৬০)।

মর্জিনা বেগম বলেন, ‘ভোটের সময় আইসে মেম্বার-চেয়ারম্যান! আর কোনও খোঁজ নাই। ভোটার আইডি কাটোত (কার্ডে) ভুল হইছে সেই জন্যে কোন না পাং (কিছু পায় না)। বয়স (৬০) সেটে হইছে (৪৫)। হামাক দয়া করি কাও যদি সহায়তা করিল হয় তাইলে ভালোভাবে চলির পাইতাম।’

মর্জিনা বেগমের স্বামী লুৎফর রহমান (৭০) প্যারালাইস আক্রান্ত। তিনি চার সন্তানের জননী। তিন ছেলে এক মেয়ে। দিন মজুর ও রিক্সা চালক ছেলেদের সংসার চলে কষ্টে। তাই বৃদ্ধা মর্জিনা বেগম পরিবারের বোঝা হয়ে না থেকে বেছে নিয়েছেন এই পথ। তারপরও ছেলেরা তার খোঁজ রাখে না।

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝাঁলমুড়ি, বাদাম, চানাচুর, আঁচার বিক্রি করে আয় হয় ২৫০/৩০০ টাকা। তা দিনে কোনও রকম অসুস্থ স্বামীর ওষুধ কেনা যায়। সন্ধ্যা হলে বাসায় ফিরে করতে হয় ঘরের কাজ। ভাগ্যে জোটেনি একটি বয়স্ক ভাতা ও ভিজিডি কার্ড!
মর্জিনা বেগম রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার লক্ষিটারী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড খ্যান পাড়া এলাকার লুৎফর রহমানের স্ত্রী। তার থাকার মতো একটি ঘরও নেই! ছেলের দেয়া ঘরে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে কোনও রকম থাকেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গংগাচড়া মহিপুর তিস্তা বাঁধের নিচে ঝাঁলমুড়ি বিক্রি করছেন মর্জিনা। বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ঝুালমুড়ি খাচ্ছেন। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন বিভাগীয় শহর রংপুর থেকে ঘুরতে আসে অনেক দর্শনার্থী। সেদিন তুলনামূলক বেশি বিক্রি হয়। তবে ঝাঁলমুড়ি বিক্রি করে তার সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় রমিজ উদ্দিন জানান, এই মহিলার খুব কষ্ট। স্বামী অচল। কর্ম করতে পারেন না। থাকার মতো নিজের একটা ঘরও নাই। ছেলেদের দেয়া ঘরে থাকেন। ছেলেরা নিজেরা কাজ করে সংসার চালা এনাক দেখার মতো কেউ নেই। তাই ঝাঁলমুড়ি বিক্রি করে কোনও রকম সংসার চলে। তাকে কেউ যদি কিছু সাহায্য করতো তাহলে শেষ বয়সে ভালোভাবে চলতে পারতো।

লক্ষিটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল- হাদী জানান, তিনি অনেক অসহায়। বিষয়টি আবগত আছি। তার আইডি কার্ড জটিলতার কারণে ভাতা হয়নি। তবে তাকে আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ সংশোধন করতে বলা হয়েছে। ভোটার আইডি কার্ড ঠিক হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Place your advertisement here
Place your advertisement here