• শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১৭ ১৪৩০

  • || ১৯ শা'বান ১৪৪৫

Find us in facebook
সর্বশেষ:
পুলিশকে বন্ধু হিসেবে জনগণের পাশে থাকতে হবে: রাষ্ট্রপতি চিকিৎসকদের দায়িত্ব নিয়ে সেবা দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোজায় বড় ইফতার পার্টি না করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুরে সোহেল হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কাউনিয়ায় ভুট্টা গাছের সঙ্গে শত্রুতা

গণহত্যা প্রতিরোধে বিশ্বের সম্মিলিত শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

গণহত্যা ও অনুরূপ অপরাধ প্রতিরোধে বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি সারাবিশ্বে শান্তি ও অহিংসার সংস্কৃতি প্রচারসহ এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিশ্বের সম্মিলিত শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।

গণহত্যার অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও মর্যাদা এবং এ অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবসের প্রাক্কালে এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও মর্যাদা ও এ অপরাধ প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবস এবং গণহত্যার অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত কনভেনশনের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বের ইতিহাসজুড়ে গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে এবং সব গণহত্যা প্রতিরোধে ও অপরাধীদের ভোগ করা দায়মুক্তির অবসানে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।

তিনি আরো বলেন, গণহত্যার অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আমাদের নিজস্ব বেদনাদায়ক ইতিহাস থেকে উদ্ভূত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে পূর্ব পাকিস্তানের নিরীহ নাগরিকদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক অভিযান চালায়। আমাদের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ সময়ে দখলদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের হাতে ৩০ লাখ নিরীহ মানুষ নির্মমভাবে নিহত হয়। ২ লাখেরও বেশি নারী যৌন সহিংসতা ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১ কোটি মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে সীমান্তের ওপারে পাড়ি দিতে হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে বেদনা ও ট্রমা সহ্য করেছি তা আমাদের যেকোনো স্থানে গণহত্যা বন্ধ করতে এবং এ জঘন্য অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার দাবি করতে অনুপ্রাণিত করে। আমরা ১৯৭১ সালের গণহত্যার কিছু মূল অপরাধীকে বিচারের আওতায় এনে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ এবং এ ক্ষত প্রতিরোধে আমাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে আমরা বাংলাদেশে ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করি। আমাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দান এবং ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।

সরকার প্রধান বলেন, গণহত্যার অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত কনভেনশনের ৭৫তম বার্ষিকী পালন করছি এমন সময় যখন আমরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গণহত্যার ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের মাত্রা ও তীব্রতা, বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যা আমাদের একই ধরনের বেদনাদায়ক ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেয়, যার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের অঞ্চলে রোহিঙ্গা মুসলমানরা কীভাবে নিয়মতান্ত্রিক নিপীড়ন ও নৃশংসতার শিকার হয়েছে তা দেখে আমরা আতঙ্কিত হয়েছি। নির্যাতনের শিকার ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবাস করতে পারে এমন একটি নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে তাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করার আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে জেনোফোবিয়া, বর্ণবাদ এবং ঘৃণা ছড়ানোর কারণে আমরা উদ্বিগ্ন। এগুলো দুর্বল মানুষকে গণহত্যার মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।

বিশ্বের সব রাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের এই ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে, গণহত্যার ঘটনা রোধ করতে এবং সেই ঝুঁকিগুলো দৃশ্যমান হয়ে গেলে দ্ব্যর্থহীনভাবে তাদের নিন্দা করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Place your advertisement here
Place your advertisement here