• শুক্রবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

Find us in facebook
সর্বশেষ:
গৌরবদীপ্ত বিজয়ের মাস শুরু দেশে করোনার টিকার ৪র্থ ডোজ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রংপুর সিটি নির্বাচনে ১০ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ নীলফামারীতে ইয়াবাসহ ১৫ মামলার আসামি গ্রেফতার টিসিবির জন্য ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার

শেখ হাসিনা : ষড়যন্ত্রের কাছে দূরে

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  

Find us in facebook

Find us in facebook

হায়দার মোহাম্মদ জিতু   

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এক পুণ্যবতী নাম। বাঙালির শান্ত সাহস। প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে জনপদকে এগিয়ে নিয়ে নেওয়া বেহুলা তিনি। বেহুলা যেমন সাপে কাটা স্বামীকে একক ভাসানযাত্রায় নিয়ে গেছেন, জীবনের নতুন স্বাদ দিয়েছেন।

শেখ হাসিনাও তেমনি সংযম, নৈতিকতা আঁকড়ে বাঙালিকে দরিদ্র ও সাহায্য নির্ভর অবস্থা থেকে বের করে সমৃদ্ধির স্বাদ দিয়েছেন। এতেই তাঁর আশপাশে তৈরি হচ্ছে শত্রুশিবির।

কাছে-দূরের আচরণ কিংবা লক্ষ্য পর্যবেক্ষণ করলে মনে হতে পারে, এরা যেন লুট করতে এসেছে। মগের মুল্লুক প্রবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ খুঁজছে! এসবের মূল প্রতিপক্ষই এখন জনগণের সুখপাখি শেখ হাসিনা।

আগেও এ দেশে সংগঠন, ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অধিকার আদায়ের জন্য, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা নির্মম, নির্লজ্জ। এখন কেউ অন্যায় করলে তার কমিউনিটিকে ঢাল হিসেবে নিয়ে জনগণকে ব্ল্যাকমেইল করতে চায়। ঘরের ভেতর উপঘরের নৈরাজ্য সৃষ্টিতে তৎপর, যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বরদাশত হওয়া অসম্ভব।

এর বাইরে গণতন্ত্রের একটা সাধারণ দিক—ক্ষমতায় যে-ই থাকুক, প্রতিপক্ষ থাকবেই। ফলে দেখা যায়, সরকারের সঙ্গে ভেতর-বাইরের স্বার্থ সম্পর্কিত বনিবনা না হলে বিরোধীপক্ষকে খেপিয়ে, ফুঁসলিয়ে, সরকারপক্ষকে বিপাকে ফেলার কৌশল অবলম্বন করা হয়। প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার করা হয়। তা ছাড়া যেখানে এখনো উসকানি দিয়ে খেপিয়ে মানুষ হত্যা করানো যায়, সেখানে সচেতনতা তৈরিতে আরো সময়ের প্রয়োজন তো আছেই। এই কিছুদিন আগেও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে—এই ধুয়া তুলে একজন নারীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিরীক্ষিত দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে, এখানে এখনো জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি জনগণের মাঝে গড়ে উঠতে পারেনি। তবে বঙ্গবন্ধু-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম ও একক নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা সেই বোধ জাগাতে চেষ্টা করছেন। যদিও এর আরেক সমস্যা হলো তাঁর ভৌগোলিক অবস্থান, যা অন্যান্যের জন্য প্রভাব বিস্তারের উর্বর ও আকর্ষণীয় ক্ষেত্রবিন্দু। বৈদেশিক যেকোনো বিষয়ে ইয়েস ইয়েস বলার স্বভাব শেখ হাসিনার নেই। দেশীয় স্বার্থের বাইরে তিনি এক পা-ও হাঁটেন না, যা ক্ষমতাকেন্দ্রিক ভেতর-বাইরের জন্য চ্যালেঞ্জের।

কেউ কেউ এই এক চেয়ার কিংবা ক্ষমতার বিনিময়ে সর্বস্ব দিতে রাজি, যা রেজিম চেঞ্জ বা ক্ষমতা বদল করে স্বার্থ উদ্ধারকারীদের জন্য মোক্ষম হাতিয়ার। তা ছাড়া প্রাথমিক অস্ত্র হিসেবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার নেই, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ফতোয়া—এসব তো আছেই। এ সময়টায় মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যারা এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, তাদেরও প্রশ্ন ছুড়ে দিতে হবে তাদের নিজেদের ঘরে এসব ঠিকঠাক মজুদ আছে তো?

রেজিম চেঞ্জ বা ক্ষমতার বদল ঘটানোর মাধ্যমে স্বার্থ উদ্ধারের কৌশল বহু পুরনো। কখনো প্রপাগান্ডা, কখনো সরাসরি হত্যাকাণ্ড, কখনো প্রহসনমূলক বিচার করা—এসবও এখন মানুষের জানা। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে দেশ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। শুধু তা-ই নয়, দরিদ্রতা ঝেড়ে দেশ এখন কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের দিকে এগোচ্ছে। এখানেই সবার গাত্রদাহ। কারণ অসহায় হলে সেবাদাস বানিয়ে হুকুম জাহির করা যায়, কিন্তু সহায় হয়ে উঠলে সমানে সমানে হিসাব করতে হয়।

বৈশ্বিক উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, উঠতি দেশগুলো খবরদারি না শুনলে সেখানে মানবাধিকার সংকট, গণতন্ত্রে ত্রুটির ধুয়া তোলা হয়। গ্লাস হাতে দৌড়াতে দৌড়াতে উদ্ধারকারী দল, প্রপাগান্ডা মিডিয়া সেটা নিয়ে গবেষণামূলক প্রতিবেদন তৈরিও করে। ইদানীং কিছু দৃশ্যতও হচ্ছে। কাজেই আগামীর বাংলাদেশকে সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যেন অন্যের কানাকানি, সুড়সুড়িতে এগিয়ে চলা দেশ কক্ষচ্যুত না হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় আছেন। কাজেই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উদগ্রীব অংশ ষড়যন্ত্রের পথেও হাঁটতে পারে। বিষয়গুলো নজরদারিতে রাখা জরুরি। তাঁকে ঘিরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে—এমন আলোচনা ইদানীং ঘরে-বাইরে সব স্থানেই আছে।  

বাংলার আকাশ থেকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দুর্বৃত্তায়ন রুখতে শেখ হাসিনা অবিকল্প, অকুতোভয়। কাজেই দিনবদলের এই মিছিলে যাঁরা বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার শেখ হাসিনাকে নিয়ে ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্রের খেলায় সুযোগ খুঁজছেন, তাঁদের জন্য ‘নো মারসি’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নইলে এ দেশ হবে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ মাথা তুলে দাঁড়াবে। দারিদ্র্য ও ক্ষুধা হবে ছায়াসঙ্গী।

লেখক : প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ
[email protected]

Place your advertisement here
Place your advertisement here