ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুসরণ করে করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ২৫০টি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করেছে
  • সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১০ ১৪২৮

  • || ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

Find us in facebook
সর্বশেষ:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদন শুরু ২৮ জুলাই ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প আসছে বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে, বিধিমালা কার্যকরে উদ্যোগ দেশের মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তায় হচ্ছে পুষ্টি বাগান পশুর নাড়ি-ভুঁড়ি রফতানি করে বছরে আয় ৩২০ কোটি টাকা

কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসনের অভিযান 

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২১  

Find us in facebook

Find us in facebook

লালমনিরহাটে কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা ও মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি গত ৬ দিনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ঘর থেকে অকারণে বেড় হওয়া মানুষ, যানবাহন এবং দোকানপাট খোলার অপরাধে ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩৯০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) রাশেদুল হক প্রধান জানান, গত ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ৯৪টি ভ্রাম্যমান আদালত জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৪৩৩টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় ৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩৯০ টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে। করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারি কমিশনার (ভূমি), জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে মাঠে কাজ করছেন।      

জানা গেছে, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার প্রত্যেকটি এলাকায় মানুষকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে জনসচেতনতা ও মাস্ক বিতরণে পাশাপাশি ১৫-১৬জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। নির্বাহী 

ম্যাজিষ্ট্রেটরা হলেন- পাটগ্রামের ইউএনও মোঃ সাইফুর রহমান, লালমনিরহাটের ইউএনও উত্তম কুমার রায়, আদিতমারীর ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন, হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন, কালীগঞ্জের ইউএনও আব্দুল মান্নান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এনডিসি টি.এম. রাহসিন কবির, সদর উপজেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার(ভূমি) পূর্ণেন্দু দেব, আদিতমারী উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোছাঃ দিলশাদ জাহান, হাতীবান্ধা উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) শামীমা সুলতানা, পাটগ্রাম উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোঃ রুবেল রানা, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মাহবুব আলম মাহবুব, ফরিদ আল সোহান, মোঃ মাহবুবুর রহমান, নয়ন কুমার সাহা, নাজিয়া নওরীন ও আল আমিন হালদার।   
 
মাঠ পর্যায়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও মাস্ক বিতরণ করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর টি.এম. রাহসিন কবির বলেন, ‘সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণার পর মানুষ নিরাপদে থাকার কথা কিন্তু কিছু মানুষ ঘরে না থেকে বাইরে অকারণে ঘোরাফেরা করার চেষ্টা করছে। অনেককেই বাইরে না আসার জন্য আমরা নিরুৎসাহিত করছি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমি প্রতিনিয়ত মানুষের জন্য কাজ করছি। অথচ আমার ঘরে ছোট্ট বাবু রয়েছে। যেভাবে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষকে বলবো, আগে জীবন পরে জীবিকা। তাই আপনার ঘরে থাকুন। নিরাপদে থাকুন।’ 

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, ‘তিনদিকে ভারতীয় সীমান্ত ব্যষ্টিত এ উপজেলার মানুষকে নিরাপদে রাখতে আমরা সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে সর্বাত্মক লকডাউন পালনের চেষ্টা করছি। আশা করছি, মানুষ তাদের জীবন রক্ষার জন্যই লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।’

তিনি আরও জানান, ‘বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে আগত পাসপোর্টধারী যাত্রীদেরও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিশেষ ব্যবস্থায় কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। চেষ্টা চলছে সব পক্ষের সহযোগিতায় নভেল করোনা ভাইরাস কভিড-১৯ মোকাবেলা করার।’    

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর ভ্রাম্যমান আদালত প্রসঙ্গে বলেন, ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কারিগরি কমিটির পরামর্শের আলোকে গত ২৬ জুন সকাল ৬টা থেকে লালমনিরহাট পৌরসভা এলাকায় লোকজন চলাচলে ৭ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। এই কঠোর বিধিনিষেধের সময়সীমা শেষ না হতেই জাতীয়ভাবে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ হতে গত ১লা জুলাই থেকে ৭ দিনের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিছু মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে ঘরের বাইরে অকারণে ঘোরাফেরা, কিছু যানবাহন ও দোকানপাট খোলার চেষ্টা হয়েছে। আমরা নিরুৎসাহিত করার পরও যারা আইন অমান্য করার চেষ্টা করেছে, তাদেরকেই ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান করে মোকাবেলা করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একজন মানুষকেও ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করতে চাই না। কিন্তু এতো সচেতনতা চালানোর পরও কিছু মানুষকে দুর্ভাগ্যবশত ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করেছে। এরমধ্যে দোকানপাট ও যানবাহনও রয়েছে। ’ 

লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি শেখ আব্দুল হামিদ বাবু বলেন, প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজের জীবন বাজি রেখে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে। আমাদের ব্যবসায়ীরাও অনেক চড়াই-উতরাই মারিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সবকিছু সরবরাহ করে যাচ্ছে। জরুরী প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়ে সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানান তিনি। এ জেষ্ঠ্য ব্যবসায়ী সবদিকে সবাইকে নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি।  

Place your advertisement here
Place your advertisement here