• শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৯

  • || ১৩ মুহররম ১৪৪৪

Find us in facebook
সর্বশেষ:
ছুটির দিনে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় শোক দিবসে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: আইজিপি বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গম রফতানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিল্প-কারখানায় এলাকাভেদে সাপ্তাহিক ছুটি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি: খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

ঠাকুরগাঁওয়ে ২ ছাগলের মারামারি: মসজিদের মুয়াজিনকে আসামি করে মামলা

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২২  

Find us in facebook

Find us in facebook

ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর শহরের নিশ্চিন্তপুরে দুই ছাগলের মারামারিকে কেন্দ্র করে মসজিদের মুয়াজিনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পারিবারিক বিবাদের জেরে আদালতে মামলাটি করেছেন তার ভাইয়ের স্ত্রী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীর ও ঠাকুরগাঁও জেলা আদালতের আইনজীবী অ্যাডভেঅকেট আতাউর রহমান বলেন, গত ১ জুন দুই ছাগলের মারামারিকে কেন্দ্র করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ এনে তানিয়া ইসলাম বাদী হয়ে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে বাদীর স্বামীর ভাই জাকিরুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাহেব আলী ও ভাইদের স্ত্রী পারুল বেগম ও ফেন্সি বেগমকে।

মামলার দুই নম্বর আসামি জাহিদুল ইসলাম পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের শাহপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মসজিদের সহসভাপতি মোখলেসুর রহমান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১ জুন দুপুর ১টার দিকে বাড়ির উঠানে বেঁধে রাখা তানিয়া ইসলামের চার মাসের গর্ভবতী ছাগল ও তার ভাসুর জাকিরুল ইসলামের ছাগল মারামারি করে। পরে ছোট ভাই জাহিদের স্ত্রী তানিয়া ইসলাম ও জাকিরুলের স্ত্রী ফেন্সি বেগমের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ঝগড়া বড় আকারে রূপ নেয়। এ সময় তিনি ফেন্সিকে ছাগল বেঁধে রাখার কথা বললে তাকে মারধর করেন তারা। এরপর তিনি ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে এ নিয়ে থানায় মামলা করেন।

স্থানীয় কাউন্সিলর রমজান জানান, এ ঘটনার পর তাদের বাবা আবুল হোসেনের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে দুপক্ষকে থানায় বসিয়ে সমঝোতা করে দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার একই ঘটনায় কেন মামলা করা হলো, তা আমার জানা নাই। পুলিশ মামলার তদন্ত করছে।

এদিকে গত ১ জুন মামলা করার পর থেকে গ্রেপ্তার-আতঙ্ক নিয়ে ইজিবাইক চালাচ্ছেন মুয়াজিন জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার ও আমার স্ত্রীর কোনো সম্পর্ক নাই। আমার স্ত্রী সেদিন প্রেসার ও ডায়াবেটিস জটিলতা নিয়ে ঘরেই অবস্থান করছিল। অথচ আমাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করতে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এমন হয়রানিমূলক মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। আমি হয়রানি ও আতঙ্কের শিকার।

তিনি আরও বলেন, মামলা করেও শান্ত হননি তারা। প্রতিদিন বাড়িতে নানা রকম হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমি তাদের অত্যাচারের কারণে রাতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ইজিবাইক চালাই। আমি তাদের কোনোমতে বোঝাতে পারি না যে আমরা এক পরিবার। তবে আদালতের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে।

মুয়াজিন জাহিদুলের স্ত্রী পারুল ইসলাম বলেন, সমাজের কাছে আমাদের খারাপ করতেই তানিয়া মামলা করেছে। সে চেঁচিয়ে হুমকি দিচ্ছে আমাদের বাসায় মাদকদ্রব্য রেখে ফাঁসাবে। আমি বুঝতে পারছি না আদালতে মামলা করেও কেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না তারা। সত্য হোক বা মিথ্যা, যেহেতু একটা মামলা তারা করেছে, তাদের আদলতের ওপর আস্থা রেখে সংযত থাকা উচিত। আমাদের সমাজের কাছে করছে তারা। এটা অন্যায়।

এ বিষয়ে বাদী তানিয়া ইসলাম বলেন, আমাকে তারা সবাই মিলে সেদিন মারধর করেছে। স্থানীয়ভাবে বসেছিল। আমি আমার ন্যায্য বিচায় পাইনি। সে জন্য আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেছি। আইন যা সিদ্ধান্ত নেবে তা মাথা পেতে নিব।

শাহপাড়া মসজিদের মুসল্লি আবু রায়হান অপু বলেন, মাহে রমজানের শেষের দিকে যখন মুয়াজিন মসজিদে যোগদান করেন, সে সময়কার ঘটনা এটি। মুয়াজিন সাহেব যে এ ঘটনায় জড়িত নন, তা আমরা সবাই জানি। কারণ তিনি মসজিদে ছিলেন। এমন হয়রানিমূলক মামলা কখনোই কাম্য নয়। এর সুষ্ঠু তদন্ত করা উচিত।

শাহপাড়া মসজিদের সহসভাপতি মোখলেসুর রহমান বলেন, এক মুয়াজিনকে এভাবে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া সামাজিকতা পরিপন্থি। সেদিন তিনি ভোর থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত মসজিদে ছিলেন। মসজিদ উন্নয়নকাজে টাকা সংগ্রহ করেছেন ও মসজিদের খেদমত করেছেন। পারিবারিক কলহ থাকতে পারে। তবে এমন প্রতিহিংসা আছে বলে আমার জানা নাই।

প্রতিবেশী লিটন ইসলাম বলেন, সেদিন এশা ও তারাবি শেষে মুয়াজিন বাড়িতে এলে সবাইকে চিল্লাচিল্লি করতে দেখে শান্ত হতে বলছিলেন। এ সময় ছোট ভাইদের ঝামেলা সমাধান করার চেষ্টা করেছেন বরং উল্টো তাকে অপমান করেছে উভয়পক্ষ। মামলা করার পরও ঝগড়ার থামে না। যখন-তখন অঘটন ঘটতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বলেন, আদালতের মামলার কাগজ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

Place your advertisement here
Place your advertisement here