• শনিবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২১ ১৪২৯

  • || ১২ রজব ১৪৪৪

Find us in facebook
সর্বশেষ:
সমতার ভিত্তিতে সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন নজরুল- প্রধানমন্ত্রী কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সার, বীজের দাম বাড়ানো হবে না সমতার ভিত্তিতে সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন নজরুল দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে নিম্নচাপ স্মার্ট নাগরিক গড়তে কাজ করে যাচ্ছি: শিক্ষামন্ত্রী

মাঠে শূন্য বিএনপির রাজনীতি

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

বিএনপির রাজনীতি শুধু বক্তব্য প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, মাঠের রাজনীতির বাস্তবতায় তারা শূন্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন করে বিএনপি। তারা (বিএনপি) এটিকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন উপলক্ষে আয়োজন করেছিল। এ মানববন্ধনে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। এতে মহানগর উত্তর এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা বক্তব্য দিয়েছিলেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মানববন্ধনে মূল বক্তব্য প্রদান করেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামীতে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হলে বিচারপতি খায়রুল হকের বিচার করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করায় ২০১৪ সালের নির্বাচন আমরা বর্জন করেছিলাম। এর নায়ক ছিলেন কে?

নিজের প্রশ্নের উত্তরে ফখরুল বলেন, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক (এ বি এম খায়রুল হক)। যদি ভবিষ্যতে কোনোদিন সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার, গণতন্ত্রের সরকার আসে তাহলে বিচারপতি খায়রুল হকেরও বিচার হবে গণতন্ত্র, বাংলাদেশের সংবিধানকে ধ্বংস করার জন্য, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়ার জন্য।

মির্জা ফখরুলের এ বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে এককভাবে দায়ী করে তার বিচারের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি কতখানি যৌক্তিক— তারও একটি যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তারা। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বক্তব্য মানেই ‘হুমকি’। আর রাজনীতি মানেই ‘জ্বালাও-পোড়াও’। মির্জা ফখরুল ইসলামের এমন বক্তব্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতিই শুধু নয়, বিশেষ একজন বিচারককে দায়ী করে বিচার করার যে ‘হুমকি ও প্রতিশ্রুতি’— তা আইন, গণতন্ত্র ও বিচারে বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন করতে পারে কি না সেটি অবশ্যই বিচার্য বিষয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এক্ষেত্রে বিএনপির এমন দাবি অযৌক্তিক। কারণ ২০১১ সালেই তাদের বিরোধিতা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তারই ফলশ্রুতিতে দলীয় সরকারের অধীনে দেশে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, উপ-নির্বাচনসহ অনেক নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং হচ্ছে। জনমতের প্রশ্নে বিএনপি হেরে গেলে সেক্ষেত্রে সরকারের বা আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনপির রাজনীতি শুধু ‘হুমকি’তেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবতায় ফলাফল শূন্য। ১০ ডিসেম্বরের পর বিএনপি আসলে কী করতে চায়— এমন একটি প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছিল এবং এই দিনটি ঘিরে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। কী হতে পারে ১০ ডিসেম্বর? সে সময়ে প্রকাশ্যে সরকার উৎখাতের হুমকিও দিয়েছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমান। তিনিও হুমকিতেই সীমাবদ্ধ। এছাড়াও বিএনপির বিগত আন্দোলনগুলোতে বাসে আগুন দেওয়া, ভাঙচুর— এসব প্রত্যক্ষ করেছে জনসাধারণ। এজন্যই বিএনপির এসব হুমকিতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে খুব সহজেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই আগ্রাসী মনোভাবের কারণ বোঝা কঠিন কিছু নয়। তারা যেনতেন প্রকারে গদি চায়। আর গদি হারানোর রাগে সুযোগ পেলেই তারা এমন সব কাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। বিএনপি হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতির সেই দল, যাদের আসলে কোনো আক্কেল দাঁতই ওঠেনি। তারা ইচ্ছামতো গজিয়ে ওঠা একটি দল। গণতন্ত্র ও জনস্বার্থে একটি বিরোধী দল থাকা দরকার। এক্ষেত্রে বিএনপির মধ্যে সেই গুরুত্ব নেই। তাদের জনসমর্থনও নগণ্য। আবার তারা অব্যাহতভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে বিরোধী দলের সেই গুরুত্বও গড়ে উঠছে না। তারা কেন এসব করে তা বোঝা কঠিন কিছু নয়।

বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, আসলে বিএনপি রাজনৈতিক শিষ্টাচার মানার দল নয়। এটাই তাদের ইতিহাস। বিএনপিকে আওয়ামী লীগ হটায়নি। অবৈধভাবে সরকার গঠনের কারণে তাদের সরিয়ে দিয়েছিল ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা। তারপর জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। সেই থেকে তারা রাজপথে থাকার পরিবর্তে একের পর এক ষড়যন্ত্র আর সংঘাতে সরকার পতনের জন্য মরিয়া। আসলে এসব হুমকি-ধামকি দিয়ে আর ষড়যন্ত্র করে সরকার হটানোর যে আন্দোলন বিএনপি করতে চায়, তা কোনোদিনই সফল হবে না।

Place your advertisement here
Place your advertisement here