• শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

  • || ০৪ মুহররম ১৪৪৬

Find us in facebook

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে কঠোর অবস্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোকে অধিক কৃচ্ছ্রসাধন তথা ব্যয় কমাতে বলা হয়েছে। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম কমাতে পরিচালক নিয়োগে অতিরিক্ত তিনটি শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে দুটি আলাদা সার্কুলার জারি হয়েছে।

সার্কুলারে ব্যাংকের খরচ কমানোর জন্য প্রয়োজন ছাড়া সরাসরি উপস্থিত হয়ে সভা করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। জ্বালানি ও বিদু্যৎ সাশ্রয়ের কথা মাথায় নিয়ে যতদূর সম্ভব অনলাইন পস্ন্যাটফর্মে এসব সভা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে সদ্য সমাপ্ত রমজান মাসে ইফতার পার্টি আয়োজন করতে নিষেধ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যাংকই রমজান মাসে ইফতার পার্টির আয়োজন করে। ব্যাংকগুলোর খরচ কমানোর অংশ হিসেবে এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছিল। এর মধ্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) জন্য কেনা গাড়ি নূ্যনতম পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর ব্যবহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে আরেক নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর জন্য সব ধরনের গাড়ি কেনা বন্ধের পাশাপাশি ভ্রমণ, আপ্যায়ন, আসবাব, বৈদু্যতিক সরঞ্জাম, মনিহারি সামগ্রী, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক জিনিস কেনা বাবদ খরচ কমিয়ে অর্ধেক করে দেওয়া হয়। এছাড়া ডলার সংকট কাটাতে ডলার খরচ করে ব্যাংকারদের সব ধরনের প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) পরিচালক নিয়োগের শর্ত আরও কঠিন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একের অধিক ব্যক্তি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবেন না।

পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকা অবস্থায় তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি উক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবেন না।

কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে কোনো প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্তাবিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ার ধারকের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবেন না।

নতুন এ নীতিমালার পাশাপাশি এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে নীতিমালা সেটি অক্ষুণ্ন থাকবে।

সেই নির্দেশনায় বলা ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো পরিচালক নিয়োগ করা যাবে না। আবার নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো পরিচালককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া অব্যাহতি বা অপসারণ করাও যাবে না।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নির্বাচন বা মনোনয়নের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। কোনো পরিচালককে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতীত পদ হতে অব্যাহতি দেওয়া, বরখাস্ত করা বা অপসারণ করা যাবে না।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা আছে, সংশ্লিষ্ট পরিচালককে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বিধানানুযায়ী নূ্যনতম শেয়ার ধারণ করতে হবে। ওই পরিচালকের অনূ্যন ১০ বছরের ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কোনো পরিচালক কিংবা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ঋণ খেলাপি হতে পারবে না।

আরও বলা হয়, পরিচালক পদে মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনয়ন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ফৌজদারি অপরাধে দন্ডিত হতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে দেওয়ানি কিংবা ফৌজদারি আদালতের রায়ে কোনো বিরূপ পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য থাকলে তিনি পরিচালক হতে পারবেন না। পরিচালক পদে মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনয়ন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের কোনো সংস্থা কর্তৃক সম্পাদিত তদন্ত কিংবা পরিদর্শন প্রতিবেদনে জাল-জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ বা অন্যবিধ অবৈধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকতে পারবে না। মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনয়ন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যদি আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিমালা, প্রবিধান বা নিয়মাচার লঙ্ঘনজনিত দন্ডিত হলে সেটিও পরিচালক পদের জন্য অন্তরায় হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকা অবস্থায় তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যার কোনো পৃথক সত্তা নেই তার পক্ষে আর কোনো পরিচালক উক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে নিযুক্ত হতে পারবে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বহিঃহিসাব নিরীক্ষক, আইন উপদেষ্টা, উপদেষ্টা, পরামর্শক, বেতনভুক্ত কর্মচারী বা অন্য কোনো পদের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন কিংবা বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে নিয়োজিত ছিলেন এরূপ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারবে না।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদের মেয়াদ হবে অনধিক তিন বছর। কোনো পরিচালক একাধিক্রমে তিন মেয়াদের বেশি উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে উলেস্নখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, একাধিক্রমে তিন মেয়াদে পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ হতে পরবর্তী তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি পরিচালক পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন।

Place your advertisement here
Place your advertisement here