• রোববার ০৫ মে ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ২২ ১৪৩১

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৫

Find us in facebook

তারেকের স্বেচ্ছাচারিতায় বিএনপিতে অনাগ্রহী স্থায়ী কমিটির সদস্যরা

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২২  

Find us in facebook

Find us in facebook

বিএনপির ভেতরে একনায়কতন্ত্রের চর্চা বেশ পুরোনো। তবে বর্তমানে এটি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও দল পরিচালনার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

সর্বশেষ নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দুই নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি। এরও আগে, অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে। 

জানা গেছে, তৈমুর আলম খন্দকার বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ একাধিক নেতার সঙ্গে পরামর্শ করার পরই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

তৈমুর আলম খন্দকার যখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে নামেন তখন তাকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টেলিফোনে অভিনন্দনও জানান। পাশাপাশি তৈমুর আলম খন্দকারকে জনতার প্রার্থী হিসেবে অভিহিতও করেন। তবে ৪৮ ঘণ্টা পরেই সিদ্ধান্ত পাল্টে দল থেকে তৈমুর আলম খন্দকারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। 

দলের বিশ্বস্ত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, লন্ডন থেকে তারেক জিয়া টেলিফোন করে তৈমুর আলম খন্দকারকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। তবে এ নির্দেশ কেন দেওয়া উচিত নয়, এ নিয়ে তারেককে টেলিফোনে বুঝানোর চেষ্টা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সে সময় তারেক জিয়া ফোন কেটে দেন এবং এরপরই এ নির্দেশ কার্যকর করা হয়।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এভাবে একটি রাজনৈতিক দল চলতে পারে না। আমরা গণতন্ত্রের কথা বলছি, অথচ বিএনপির ভেতরেই স্বৈরাচারের বসবাস।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, শুধু তৈমুর আলম খন্দকার নয়, এর আগে খুলনার জনপ্রিয় নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকেও দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তারেকের একক নির্দেশেই। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রদানের এখতিয়ার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেই।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, দলে কোনো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদই নেই, তাহলে কীভাবে তিনি একজন নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দিলেন। আর এ নিয়ে বিএনপিতে চলছে তুলকালাম কাণ্ড। তারেক জিয়ার কারণেই বিএনপি নেতারা হতোদ্যম হয়ে পড়েছেন।

তবে নির্দেশ ছাড়া কোনো কিছু করলেই দল থেকে বহিষ্কার করা, এটি কোনো নিয়ম-নীতির মধ্যেই পড়ে না। এর ফলে বিএনপিতে এখন গৃহদাহ তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও প্রতিনিয়ত দলের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন।

Place your advertisement here
Place your advertisement here