• মঙ্গলবার   ০৯ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১০ মুহররম ১৪৪৪

Find us in facebook
সর্বশেষ:
বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশকে আরো ১৫ লাখ টিকা দিলো যুক্তরাষ্ট্র মালয়েশিয়ায় গেল বাংলাদেশি ৫৩ কর্মীর প্রথম ফ্লাইট অনেকটা নিরুপায় হয়েই জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে সরকার: জয় আওয়ামী লীগ বিএনপির ওপর কোনো অত্যাচার করেনি: তোফায়েল আহমেদ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যেভাবে দেশকে প্রস্তুত করেছেন শেখ হাসিনা

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২২  

Find us in facebook

Find us in facebook

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আন্তর্জাতিক জর্নালে একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ লিখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 'স্ট্রাইভিং টু রিয়ালাইজ দ্যা আইডিয়ালস অব মাই ফাদার' শিরোনামে লেখা সেই প্রবন্ধে আজকের আধুনিক বাংলাদেশের রূপান্তরের ধাপগুলো উল্লেখ করেছেন তিনি। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও উগ্রবাদের অপছায়ায় ঢেকে যাওয়া বাংলাদেশ কীভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হলো, আওয়ামী লীগ সরকার কীভাবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করলো, সেসব বিষয় উঠে এসেছে সেই লেখায়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই প্রসঙ্গে লিখেছেন- সরকারের তত্ত্বাবধান এবং অনুপ্রেরণায় দেশের কৃষক, শ্রমিক, প্রবাসীসহ সর্বোস্তরের বাঙালির কঠোর পরিশ্রম, অনেক রক্ত-ঘাঁম-অশ্রুর বিনিময়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে বাংলাদেশ।

তিনি আরো লেখেন-যখন আমি আমাদের এই অর্জনগুলোর দিকে তাকাই, আমার মনে হয়- বাবা যদি এখন আমাদের একবার দেখতে পারতো! আমরা প্রতিকূলতার যে দুর্গম পথ পার হয়ে এসেছি, তা যদি তিনি দেখতেন, আমি জানি তিনি অনেক গর্ব বোধ করতেন। এবং তিনি আমাদের এটাও মনে করিয়ে দিতেন যে, সামনে আরো অনেক কাজ বাকি আছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তার কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করেই আমরা আজ এতোদূর আসতে পেরেছি এবং তার স্বপ্ন পূরণের জন্য সর্বোচ্চ সাফল্য পূরণের আগ পর্যন্ত এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার দুঃসাহস দেখাতে পারছি।

প্রবন্ধটিতে আজকের বাংলাদেশে উত্তরণের পেছনে তিনটি ধাপ উল্লেখ করেছেন তিনি। (১). প্রথমেই তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ গড়ার আদর্শিক প্রচেষ্টার কথা, যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী দুই ধাপে দেশকে গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা করেছেন তিনি। (২). এরপর- গত একযুগে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আশ্রয়ণ, নারী-শিশু ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, এবং গণমানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কর্মযজ্ঞ। (৩). মানুষের এই সাতটি মৌলিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার পর, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নত জীবনের জন্য দেশকে প্রস্তুত করতে আরো সাতটি মহাকর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উদ্যোগ ও ভূমিকার তথ্যাবলী উঠে এসেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লেখায়।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করতে সরকার যেভাবে কাজ করছে, সেই ধাপগুলো হলো:

১. অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন:
প্রথমবার সরকার গঠনের অল্প কিছুদিন পরে, ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সঙ্গে বিবাদমান সমস্যা সমাধান করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী রীগ সরকার। এই শান্তিচুক্তির ফলে সেখানকার দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটে। দেশের পূর্বাঞ্চলে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের অস্ত্রের ঝনঝনানি থেমে যায়, এবং স্থানীয় জনগণ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা মানুষদের উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়নের পরিষদসহ বেশ কিছু সংস্থা। ফলে আজ প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কাছেও দেশের সব আধুনিক সুবিধা পৌঁছে গেছে।

২. পানি সরবরাহ বৃদ্ধি:
১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন বিষয়ক চুক্তি সম্পন্ন করতে সমর্থ হয় আওয়ামী লীগ সরকার। এই চুক্তির ফলে শুষ্ক মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভূমিগুলোতে ফসল উৎপাদন এবং কৃষিকাজের জন্য সেঁচ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। এই চুক্তিসহ ভারতের সঙ্গে আরো কিছু চুক্তির কারণে, অনেকগুলো সেঁচ প্রকল্প হাতে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ, যার মাধ্যমে দেশের কৃষিখাত উপকৃত হচ্ছে। একারণে এখন আমাদের ৭২ শতাংশ শুষ্কভূমি এখন সেঁচের আওতায় চলে এসেছে। পানিপ্রবাহ এবং সেঁচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ধান ও সবজি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ তিন রাষ্ট্রের মধ্যে উঠে এসেছে দেশ।

সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের কারণে দেশের ৯৮.৫ শতাংশ মানুষ এখন নিরাপদ পানি পাচ্ছে, ৮৫.৭ শতাংশ মানুষ টিউবওয়েল এবং ১১.৭ শতাংশ মানুষ পাইপের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করছে। তবে এখনও আমাদের দেশের শহর এলাকাগুলোতে ভূ-গর্ভস্থ সুপেয় পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে আরো উন্নতির প্রয়োজন, কারণ এটি এখনও মাত্র ৩৮.১ শতাংশের নিচে।

৩. যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন:
আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো সরকারে আসে, তখন বাংলাদেশের অবকাঠামোগত অবস্থা ছিল খুবই অনুন্নত। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত যাওয়ার জন্য অনেক ব্রিজ এবং রাস্তা তৈরি করতে হয়েছে। এখন গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে আধুনিক সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। অবকাঠামোগত নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রথমবার আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো যমুনা নদীর ওপর ৪.৮ কিলোমিটার সেতু নির্মাণ করা। এই সেতুর মাধ্যমে দেশের উত্তর এবং পশ্চিমাঞ্চল সরাসরি পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। কারণ সেতুর কারণে উত্তরাঞ্চলের পণ্য সরাসরি পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর বড় বড় বাজারগুলোতে এবং চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারছে। রফতানিও হচ্ছে এসব পণ্য।

তবে বিশ্ব মানের সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। তবে দেশজুড়ে চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে শিগগিরই সড়ক অবকাঠামো সমস্যার সমাধান করে ফেলার পথে রয়েছে সরকার।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারে এসে আগের অনেক অসমাপ্ত কাজ শুরু করে। আপ্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর একটি দ্বিতল ও বহুমুখী সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। এই সেতু চালু হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি আমূল বদলে যাবে, যেমন যমুনা সেতুর কারণে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটেছে। এখন ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর জন্য মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে অনেক অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে এসব বাস্তবায়ন হলে ঢাকার অবকাঠামো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থারও উত্তরণ ঘটবে।

৪. আধুনিক ও ডিজিটাল তথ্য-প্রযুক্তি
১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পরই, দেশজুড়ে সেবা সম্প্রসারণের জন্য তিনটি মোবাইল কোম্পানিকে লাইসেন্স প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব কোম্পানির নেটওয়ার্কের কারণেই আজ বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষের হাতে হাতে মোবাইল সেবা পৌঁছে গেছে। দেশের সর্বোস্তরে পৌঁছে যাওয়া মোবাইল ফোনের সুবিধাকে কাজে লাগাতে ২০০৯ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' ভিশনের মাধ্যমে ই-গর্ভনেন্স চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে সরকারের যাবতীয় সেবা মানুষ নিজ ঘরে বসে পেতে পারে, তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক একটা সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং বিশ্বমানের আইসিটি সেক্টর গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

এমনকি ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস্তবায়নের জন্য প্রথম ধাপের সব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময় নির্ধারণ করা হয়। এবং এই সময়ের মধ্যে সরকারের অর্জনের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। আজ সরকারের সব সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে থেকেই পাওয়া যাচ্ছে, আমাদের আইসিটি (তথ্যপ্রযুক্তি) সেক্টর এখন বিকাশমান রফতানি শিল্পে পরিণত হয়েছে, আমাদের আইটি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা বিশ্বব্যাপী নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিটি ইউনিয়ন কাউন্সিল এলাকায় ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেছে সরকার। কিছু ক্ষেত্রে ছোট উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে এসব সেন্টার পরিচালনা করা হচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ (বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার) সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন সৃষ্ট দোকানপাটে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট সেবা, প্রিন্টিং, ফটোকপির সেবা ও এসব খাতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি প্রবাসী কর্মজীবীদের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে ডিজিটাল সেন্টারগুলো থেকে। ফলে একই সঙ্গে সেবা যেমন সহজলভ্য হয়েছে, তেমনি অনেকের উপার্জনের পথও তৈরি হয়েছে। এমনকি শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার, একারণে স্বাবলম্বী হয়ে উঠে তারাও।

শিশুদের জন্য সরকার সারা দেশে ১৩ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করছে, এরমধ্যে ৮ হাজার ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে স্থাপন করা হয়েছে কৃষিভিত্তিক ডাটা-সেন্টার, যেখান থেকে মোবাইলের ইন্টারনেট দিয়েই কৃষকরা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারেন।

দেশে ইতোমধ্যে বেশকিছু বৃহৎ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিগত পার্ক, উদ্যোক্তাদের জন্য ইনকিউবেশন এবং বিশ্বমানের ডাটা-সেন্টার তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে সরকার। যে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাশূন্যেও পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ, সেই স্যাটেলাইটের বহুমুখী সুবিধা ইতোমধ্যে ভোগ করছে জনগণ।

৩১টি নতুন ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, সাইবার সিকিউরিটিসহ ইন্টারনেট-কেন্দ্রিক বিভিন্ন সুযোগসুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য কাজ করছে সরকার। উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানুষের পাশে থাকার জন্য শেখ হাসিনার সরকার ইতোমধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এই খাতে নেতৃত্বের আসনে বসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের।

এছাড়াও, অধিকাংশ স্কুলেই মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। ফলে শিশুরা ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তবে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষার কারিকুলার এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তাহলে বড় পরিসরে একটি প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ পেশাজীবী শ্রেণি গড়ে উঠবে, যারা দেশে বসেই প্রযুক্তি-জ্ঞানের মাধ্যমে বিদেশের কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। সেই লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত সরকারের উদ্যোগে ২০ লাখের বেশি মানুষকে আইসিটি-নির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এমনকি, মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাচ্ছে। ফলে তারা ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জন্য বিদেশি কোম্পানিগুলো আমাদের এসব ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দিচ্ছে। বাংলাদেশে শিক্ষিত জেনারেশনের একটি বড় অংশ এখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমেই নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলেছে। আইটসোর্সিংয়ের এই কাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকার ফ্রিল্যান্সারদের তালিকা করছে এবং তাদের সার্টিফিকেট দিচ্ছে। ফলে আউটসোর্সিংয়ের কাজ পেতে তাদের আরো সুবিধা হবে।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবা রফতানি করছে। এছাড়াও প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ফ্রিল্যান্সার আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বছরে ৫০০ মিলিয়নের বেশি ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করছে। এই খাত থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সরকার কমপক্ষে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে।

এর বাইরেও, করোনা মহামারির মধ্যে সামাজিকভাবে সবকিছু বন্ধ থাকলেও, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়ালি দেশের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। ২০২০ সালের শুরুতে আমাদের ই-কমার্স (অনলাইনে ব্যবসা-বাণিজ্য) কার্যক্রমের পরিধি ১০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, করোনা মহামারির মধ্যেও ই-কমার্সের পরিধি আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণে উন্নীত হয়।

৫. বিদ্যুৎ সরবরাহ
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সবসময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের নীতি গ্রহণ করেন তিনি এবং এরপর ক্রমেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। শেখ হাসিনার সরকার আরো কিছু নীতি গ্রহণ করে, যার অন্যতম হলো: জ্বালানি ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ এবং প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রণোদনার উদ্যোগ। আমাদের বহুমুখী উদ্যোগের কারণে দেশে পরমাণু এবং নবায়নযোগ্য বিকল্প জ্বালানি উৎসের বিস্তৃতিও ঘটেছে। এছাড়াও আমরা ভারত-ভুটান এবং নেপালের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে সহজেই বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ আমদানি-রফতানি শুরু করেছি।

এসব উদ্যোগের কারণে এখন দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ হয়েছে। দেশের প্রতিটি গ্রামেই, প্রায় ৭০ হাজার গ্রামে বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছে দিয়েছে সরকার। ২০০৯ সালে যেখানে বিদ্যুতের সংযোগ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১০ লাখ। সেখানে গত এক যুগে সেই সংযোগের সংখ্যা উন্নীত হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখে।

এমনকি দেশের প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলেও সাবমেরিন ক্যাবল বা সৌরশক্তির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুতের সুবিধা। ২০০৯ সালে যেখানে সৌর বিদ্যুতের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ লাখের কাছাকাছি, সেখানে এখন সারা দেশে সৌর প্যানেলের সংখ্যা ৫ কোটি ৫০ লাখের বেশি। এছাড়াও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য টেকসই লাইন স্থাপন করা হয়েছে, ফলে বিদ্যুতের অপচয় কমে গেছে। উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, ২০০৯ সালে যেখানে আমাদের দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র ৪ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট; সেখানে এক যুগের ব্যবধানে তা ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। সরকার এখন ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

কমপক্ষে তিনটি কারণে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা টেকসই ও লাভজনক হতে যাচ্ছে। প্রথমত, ২০০৯ সালের পর পর থেকে মাত্র একযুগের মধ্যে আমরা আগের কয়েকযুগের তুলনায় অন্তত চারগুণ দ্রুত গতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছি, এর মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ সক্ষমতারও প্রমাণ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির কারণেই আমরা আবোরো আমাদের ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রার দিকে ধাবিত হতে পারবো, করোনার সময়ে এটি কিছুটা কমে গেছে, কিন্তু তার আগে আমরা সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিলাম। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকার আর্থিকভাবে ও জনগণ সেবার ক্ষেত্রে লাভবান হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ যতো বৃদ্ধি পাবে, মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ততোই স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।

৬. বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান
কৃষিজাত পণ্যের খাত এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণসহ বিভিন্ন খাতে শিল্প-কলকারখানাগুলোকে বিনিয়োগ করার জন্য স্বাগত জানানো হচ্ছে, এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন যে- বাংলাদেশে এখন যে কাজের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেখান থেকে তারা লাভবান হবে এবং দেশের মানুষ ও অর্থনীতিও উপকৃত হবে। এছাড়াও চামড়া শিল্প, যানবাহনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি, ঔষধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী, নির্মাণ উপকরণ, রাসায়নিক দ্রব্য, পোষাক শিল্প, ইলেকট্রিক্যাল ডিভাইস এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জামাদিসহ প্রভৃতি শিল্পে বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেছে সরকার। আমাদের দেশে এসব পণ্যের বাজার বিস্তৃত হয়েছে এবং এসব পণ্যের চাহিদাও অনেক। সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের এই দেশের অর্থনীতি যথেষ্ট স্ফীত এবং করোনা মহামারির আগে এর প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল।

মহামারি পূর্ববর্তী সময়ে আমাদের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছিল এবং ২০১৮-১৯ অর্থ-বছরে তা ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। পরে মহামারির কারণে সারা বিশ্ব যখন মন্দায় স্থবির হয়ে যায়, তখন এই বিনিয়োগ কিছুটা কমে এবং তারপরেও ২০১৯-২০ অর্থ-বছরে এর পরিমাণ ছিল ২.৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২০-২১ অর্থ-বছরে ছিল ২ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু করোনা মহামারির পর পর আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ আবারো বাড়তে শুরু করেছে।

এমনকি করোনার মধ্যেও দেশের মোট জিডিপির ৩০% বিনিয়োগ ছিলো। এরমধ্যে ব্যক্তিগত খাতে বিনিয়োগর পরিমাণ ছিল ২১ শতাংশ, যার মাধ্যমে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের পরিবেশ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে। এমনকি যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠান আগে থেকে কর্মরত ছিল, তারাও তাদের বিনিয়োগ বহাল রেখেছিল। এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। এই কারণে মহামারিমুক্ত পরিবেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আমরা বহুমার্ত্রিক কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছি।

বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করেছে এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধাসম্পন্ন অনেকগুলো বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন করেছি। এসব ইপিজেড-এর জন্য সার্বক্ষণিক গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সুবিধাসহ, পরিবেশবান্ধব উন্নত অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আমাদের এখন মোট বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংখ্যা ৮৮টি, এরমধ্যে রাষ্ট্রীয় ইপিজেড ৫৯টি এবং ব্যক্তিগত মালিকানার ইপিজেড ২৯টি। এমনকি বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে আরো ৫টি ইপিজেড স্থাপন করা হবে। এসব ইপিজেড-এর বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাতে মোট ৩৮টি দেশ ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছে।

আমাদের শ্রমজীবী মানুষদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি পূরণের জন্য আমরা বিভিন্ন রকমের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের আন্তরিকতার কারণে এখন এরকম কারিগরিভিত্তিক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫০-এ উন্নীত হয়েছে। মানুষকে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য সরকারের এরকম ভূমিকার লম্বা তালিকা রয়েছে।

একটা ব্যাপার উল্লেখ করা জরুরি, তা হলো- আমরা শুধু বিদেশিদের কাছ থেকে অর্থ উপার্জনের জন্যই তাদের বিনিয়োগ করার পরিবেশ সৃষ্টি করছি না, বরং আমাদের স্বল্প আয়ের মানুষদের উপার্জন বৃদ্ধি করে তাদের স্বাবলম্বী করার জন্যেই এতো উদ্যোগ নিচ্ছি। আমাদের স্বল্প শ্রমমূল্য এবং উন্নত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কারণে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

৭. প্রাকৃতিক পরিবেশ
বাংলাদেশের সামনে সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় হুমকিটি হলো- জলবায়ু মোকাবিলা। প্রতিনিয়তই জলবায়ু পরিবর্তনের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে উষ্ণতা যেমন বাড়ছে, তেমনি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতাও বেড়ে যাচ্ছে। যেহেতু বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব-দ্বীপ আমরা, সুতরাং আমাদের দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এবং আমরা আশা করি ধনী দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে, এবং প্যারিস চুক্তি অনুসারে পদক্ষেপ নেবে যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তবে শেখ হাসিনার উদ্যোগে সরকার নিজেও এই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ডেল্টা-ডেভেলপমেন্ট (বদ্বীপ উন্নয়ন) পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা যায়। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও যেকোনো প্রাকৃতিক দুয্যোগ থেকে রক্ষার জন্য টেকসই বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও সমুদ্রের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ থেকে উপকূলের মানুষের ক্ষেত-খামার রক্ষার জন্য সরকার উপকূলজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে বেড়িবাঁধ। দেশের টেকসই অর্থনীতি ও বিকাশমান প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু রক্ষার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

শেষ কথা:
নিজের লেখায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা লিখেছেন- আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, আমাদের দেশ ১৯৭১ সালের যুদ্ধ-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। আজকের বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর, আজকের বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে একটি বদলে যাওয়া দেশ। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল, কিন্তু দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এমনকি বিভিন্ন খাদ্যশস্যের বাড়তি উৎপাদনও হচ্ছে দেশে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের চাইতে দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ, কিন্তু এই সময়ের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণ।

স্বাস্থ্যসেবা খাতের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার মানুষের দোরগোরাতেও পৌঁছে গেছে স্বাস্থ্যসেবা। এমনকি গ্রামাঞ্চলের অন্ধকারও কেটে গেছে ঝলমলে বিদ্যুতের আলোয়। স্কুলে পড়ার মতো বয়সী প্রায় শতভাগ শিশুই এখন স্কুলে যাচ্ছে। শিশুদের স্কুলে পাঠানোর জন্য পরিবারকে উৎসাহ দিতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করছে সরকার। এমনকি এসএসসি পর্যায় পর্যন্ত একটা বড় সংখ্যার শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে (প্রাইমারি থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত) বিভিন্ন উপবৃত্তি এবং বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

দেশকে এগিয়ে নিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। ১৯৭১ সালের শেষে যখন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলাম, তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষ নিয়ে অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাদের। দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপি ছিল মাত্র ২,৫৫৪ ডলার এবং এর বৃদ্ধির গতিও একটা সময় পর্যন্ত ছিল খুবই ধীর। এমনকি মানুষের গড় আয়ু ছিল তখন মাত্র ৪৭ বছর। কিন্তু সেই অবস্থা বদলে গেছে। বাংলাদেশ এখন ১৬৫ মিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ এবং এর প্রবৃদ্ধিও খুব ভালো। এমনকি দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টি মাথায় রেখেই শেখ হাসিনা জানিয়েছেন- জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, ঠিক সেভাবেই কিন্তু মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ হওয়ার পথে ধাবমান। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। ২০২০ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই বছরই ২১ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স অর্জন হয়েছে এই পোশাক শিল্পের মাধ্যমে, যা তৎকালীন হিসেবে বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ রেমিটেন্স। এর মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয় তখন। সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এরমধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের রেজ্যুলেশনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সক্ষমতা অর্জন করেছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অল্ড সময়ের মধ্যেই উন্নত দেশের তালিকায় যুক্ত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। মাত্র এক যুগের মধ্যে এই অবিস্মরণীয় উত্তরণ কোনো অলৌকিক কিছু নয়। বরং সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, তৃণমূলের জন্য গৃহীত উদ্যোগ এবং নিজে থেকে কিছু করার জন্য মানুষের (উদ্যোক্তা হওয়া) অদম্য বাসনা, প্রভৃতির কারণে অনেক সংকট ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা আজ এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি আমরা।

Place your advertisement here
Place your advertisement here