• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৩ রজব ১৪৪৪

Find us in facebook
সর্বশেষ:
অভ্যন্তরীণ খাত থেকে রাজস্ব আদায়ে আরও উদ্যমী হোন: প্রধানমন্ত্রী জনপ্রিয়তা থাকলে নির্বাচনে আসুন: বিএনপিকে মির্জা আজম সবাইকে আইন অনুযায়ী রাজস্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির মতিঝিল-কমলাপুর মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক জোরদারে সমর্থনের আশ্বাস মার্কিন সিনেটরের

প্রতি ঘণ্টায় সেচ খরচ মাত্র ৫০-১২০ টাকা

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২২  

Find us in facebook

Find us in facebook

ফসলি জমিতে কৃষকদের সেচ দিতে প্রতি ঘণ্টায় যেখানে খরচ হয় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা আর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পাতকুয়া প্রকল্পে সেখানে খরচ পড়বে ৫০ থেকে ১২০ টাকা।

সোলার প্যানেলে মাধ্যমে জমিতে সেচ দিতে নেই কোনো জ্বালানি তেলের খরচ লোডশেডিংয়ের ঝামেলাও। রংপুরে এই পাতকুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন প্রায় দেড় হাজার কৃষক। 

২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রংপুরের ৫ জেলায় এই সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। শুকনো মৌসুমে কৃষকদের জমিতে সেচ দেয়ার জন্য পাতকুয়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিশাল ক্ষেতের মাঝে শাপলা ফুলের আদলে বিশাল এক ছাতা নির্মাণ করা হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বৃহত্তর রংপুরে এই প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের আওতায় রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে মোট ৫০টি পাতকুয়া বসানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত বসানো হয়েছে ৩৩টি।

শুকনো মৌসুমে যে এলাকায় স্বল্প পানির চাষাবাদ হয় বিশেষ করে বিভিন্ন ধরণের সবজি, সেসব এলাকার কৃষকেরা এর মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছেন । সেচ দিতে প্রতি ঘণ্টায় যেখানে খরচ পড়তো ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সেখানে দেড় ইঞ্চি ব্যাসের পাইপের মাধ্যমে পানি নিলে পড়বে ৫০ টাকা আর আড়াই ইঞ্চি পাইপের মাধ্যমে নিলে কৃষককে গুনতে হয় প্রতি ঘণ্টায় ১২০ টাকা।
 
কৃষক শমসের আলী জানান, আগের পানির জন্য ফসলের ক্ষতি হতো। লোডশেডিংয়ের কারণে সময় মতো পানি পাওয়া যেতো না। এখন সেই সমস্যা নেই। অল্প খরচে যখন খুশি পানি পাওয়া যাচ্ছে। 

কৃষক তবারক আলী জানান, পাতকুয়া কৃষকদের জন্য অনেক সাশ্রয়ী। ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে সেচের খরচ বেড়েছে। আর সেচ ছাড়া কৃষি উৎপাদন অসম্ভব। পাতকুয়ায় মাত্র ১০০ টাকায় পানি দিতে পারি।

তুলনামূলক উঁচু ও শুকনো মৌসুমে কম সেচ সুবিধার এলাকায় বসানো হচ্ছে এই কুয়াগুলো। প্রতিটি কুয়া ১২০ ফুট গভীর। ৬০ থেকে ৯০ ফুটের মধ্যে বসানো আছে একটি পাম্প। বৃষ্টির পানির পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানিও জমা হয় এখানে।
 
প্রতিটি ছাতার ওপর বসানো হয়েছে সোলার প্যানেল। ফলে পাম্প চালাতে আলাদা করে কোনো বিদ্যুৎ বা তেলের প্রয়োজন পড়ছে না। ছাতার ওপর বসানো সোলার প্যানেলই ওপর থেকে শাপলা ফুলের আদল তৈরি করেছে। একেকটি পাতকুয়া বসানোর জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ।
 
যে সমস্ত জমিতে এসব পাতকুয়া বসানো হয়েছে, সেই জমির মালিককেই দেয়া হয়েছে দেখভালের দায়িত্ব। কৃষকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ তারাই নিচ্ছেন। এতে কর্তৃপক্ষকে আলাদা করে দেয়া লাগে না কোনো খরচ।
 
রাজশাহী-নওগাঁ অঞ্চলের বরেন্দ্র ভূমিতে এই প্রকল্প প্রথমে শুরু হয়। রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের মাঝেও এই পাতকুয়া প্রকল্প বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। 

প্রকল্প পরিচালক হাবিবুর রহমান খান জানান, ৫ বছর মেয়াদী এই প্রকল্প শেষ হবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। দুই হাজার কৃষককে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা দিতে চায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। 

তিনি বলেন, এর ফলে উত্তরের কৃষি আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে একই সঙ্গে লাভবান হবেন কৃষকরা। 

Place your advertisement here
Place your advertisement here