• সোমবার   ০৮ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৩ ১৪২৭

  • || ২৪ রজব ১৪৪২

Find us in facebook
সর্বশেষ:
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি ঘোষণা আওয়ামী লীগের নতুন রূপে সাজছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের স্থান ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর উক্তি ও ছবি সম্বলিত ই-পোস্টার প্রকাশ ভাসানচরে রোহিঙ্গারা নিরাপদে আছেন: বিশেষজ্ঞরা

রোহিঙ্গাদের দক্ষ করে তুলতে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২১  

Find us in facebook

Find us in facebook

ভাসানচরে স্থানান্তর করা রোহিঙ্গাদের পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কাজে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা ছাড়াও তাদের প্রত্যাবাসনে কাজ চলবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এরইমধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত দুই দফায় ৪০৬টি পরিবারের তিন হাজারের মতো রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়। কক্সবাজার থেকে আরও রোহিঙ্গা স্থানান্তরের কাজ চলছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন ছাড়াও রোহিঙ্গা মাঝি বা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) ভাসানচর ও কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রোহিঙ্গাদের আইনি সহায়তা দেওয়া ছাড়াও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বক্ষণিক কাজ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে মানবিক সহায়তাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেল। এছাড়াও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছে।

রোহিঙ্গা নাগরিক ও তাদের সন্তানদের ইংরেজি ও মিয়ানমারের ভাষা শিক্ষা দেওয়া ছাড়াও তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছে এসব মন্ত্রণালয় এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা। কক্সবাজারেই ৪৯৫টি শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা নাগরিক ও তাদের সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভাসানচরে নেওয়া রোহিঙ্গাদেরও একইভাবে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।

ভাসানচরে নেওয়া রোহিঙ্গাদের কর্মমুখী করে তোলা হবে কিনা জানতে চাইলে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমডোর আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নৌবাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে ভাসানচরে অবকাঠামো নির্মাণ ও রোহিঙ্গাদের আবাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা। অন্য দায়িত্বগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। এরইমধ্যে তারা সেসব দায়িত্ব পালন শুরু করেছে।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ্‌ রেজওয়ান হায়াত বলেন, ভাসানচরে নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন কাজে দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছি। আমাদের একাধিক টিম সেখানে যেতে শুরু করেছে। তাদের শিক্ষা দেওয়া ছাড়াও কীভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা যায় সেটা তারা দেখবেন। খুব তাড়াতাড়ি এই কাজগুলো শুরু করা হবে। তিনি বলেন, তাদের দিয়ে গাছ লাগানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, হ্যান্ডিক্রাফট, গার্ডেনিং ও কিচেনিংসহ বিভিন্ন কাজ প্রাথমিকভাবে শুরু করা হবে। আর যখন আরও বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে তখন পশুসম্পদ পালনসহ অন্যান্য বিষয়েও প্ল্যান করা হবে। যাতে তারা নিজেরা কাজ করে খেতে ও চলতে পারে। তাছাড়া দেশি-বিদেশি সাহায্য-সহযোগিতা তো থাকবেই।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ভাসানচরে নেওয়া রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এজন্য একাধিক উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণগুলোর মধ্যে রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, ওয়েল্ডিংসহ হাতের বিভিন্ন কাজ শিক্ষা দেওয়া হবে। কবে নাগাদ এ প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাত্র তো তারা গেলো, একটু স্থিতিশীল হোক। তারপর এ কাজগুলো শুরু করা হবে। আর এ কাজগুলোর সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাও জড়িত আছে। আর তদারকি করবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের অফিস।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) ভাসানচর সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি ভাসানচরে নবগঠিত থানা উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প এবং বাসস্থানগুলো পরিদর্শন ও তাদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেবেন। এরপর সেখান থেকে কক্সবাজারের উখিয়ায় যাবেন। সেখানে রোহিঙ্গা মাঝি বা রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ, মাদক ও মানবপাচার ও রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এরপর আবার রাতে কক্সবাজার সার্কিট হাউজে জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সিভিল প্রশাসন ও সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৬ জন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে সাত লাখ ৪১ হাজার ৮৪১ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

Place your advertisement here
Place your advertisement here