ব্রেকিং:
করোনা পরিস্থিতিতে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে
  • রোববার   ১৩ জুন ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৯ ১৪২৮

  • || ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

Find us in facebook
সর্বশেষ:
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ থেকে শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব- প্রধানমন্ত্রী করোনা আপডেট: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৩৭ ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়লো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি `উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো বিএনপির পুরনো অভ্যাস` মিঠাপুকুরে করলাক্ষেতে ভাইরাসজনিত পাতা মোড়ানো রোগ দেখা দিয়েছে

রংপুরের তিন উপজেলায় হাড়িভাঙ্গা আম চাষে ভাগ্য বদল

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২১  

Find us in facebook

Find us in facebook

হাড়িভাঙ্গা আম সরকারিভাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় রংপুরের তিন উপজেলায় ব্যাপক হারে এই আমের চাষ হচ্ছে। জেলার মিঠাপুকুর, রংপুর সদর, বদরগঞ্জ উপজেলার শত শত আম চাষির পরিবারে ভাগ্যের চাকা ঘুরছে। আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি বছর রংপুরের আট উপজেলায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমির আমবাগান ফলন এসেছে। এর মধ্যে রংপুর মেট্রপলিটন এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০ হেক্টর, কাউনিয়া উপজেলায় ১০ হেক্টর, গংগাচড়া উপজেলায় ৩৫ হেক্টর, মিঠাপুকুর উপজেলায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর, পীরগঞ্জ উপজেলায় ৫০ হেক্টর, পীরগাছা উপজেলায় ৫ হেক্টর, বদরগঞ্জ উপজেলায় ৪০০ আর তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর রয়েছে। 

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউপির ধানের জমির আইলসহ চারিদিকে সারি সারি আমের বাগান। গ্রামীণ প্রতিটি সড়কের দুই ধারে, প্রতিটি বাসা-বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গা, বাড়ির ওঠানে লাগানো আমগাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলছে শত শত আম।
মিঠাপুরের আখিরাহাট, পদাগঞ্জ, মাঠেরহাট, বদরগঞ্জের গোপালপুর, নাগেরহাট, সর্দারপাড়া, রংপুর নগরের বড়বাড়ী, সদর উপজেলার সদ্যপুস্করণী ইউপিরকাঁটাবাড়ি এলাকায় গিয়ে এই দৃশ্য দেখা গেছে। 

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জুন মাসের শেষ দিকে হাঁড়ি ভাঙ্গা আম বাজারে আসতে শুরু করবে। এবার ফলন ভালো হয়েছে। তাই বেশ খুশি এখানকার আম চাষিরা। তাদের বিশ্বাস এবারও তারা লাভের মুখ দেখবেন।

মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষী মিলন মিয়া জানান, ২৪ শতক জমিতে আম গাছ থাকে ৪০ থেকে ৪৫টি। কীটনাশক, সার আর শ্রমিকসহ খরচ হয় সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। আর আম বিক্রি হয় ৪০ খেকে ৫০ হাজার টাকা।

তিনি জানান, ২৪ শতক জমিতে ধান চাষ করে লাভ তিন হাজার আর আম বিক্রি করলে লাভ ৩২ হাজার টাকা। ধান চাষ করাহচ্ছে শুধু খাবারের জন্য আর আম চাষ করা হচ্ছে লাভের জন্য। 

আম চাষি লিটন জানান, এ বছর এক একর জমির আম বাগানে মুকুল আসার পর দেড় লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। আরো ৫টি বাগান আছে তার। আমে লাভ বেশি হওয়ায় ধান চাষ বাদ দিয়েছেন। বাড়ি ভিটায় এক একর জমিতে উঠান থেকে শুরু করে ১৫০টি আম গাছ লাগিয়েছেন। 

হাঁড়িভাঙ্গা আমকে ঘিরে রংপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলায় বেকার মানুষের সংখ্যা কমেছে। বিশেষ করে মিঠাপুকুর উপজেলার লালপুর, পদাগঞ্জ, তেয়ানিসহ আশপাশের গ্রামের বেকার যুবকরা এখন আম ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।
রংপুরে হাঁড়িভাঙ্গা আমের সম্প্রসারক আব্দুস সালাম জানান, স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় এই হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান এখন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় করা হয়েছে। আমটির ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এই আমের সুনাম দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। রংপুর অঞ্চলের সার্বিক অর্থনীতির চিত্র বদলে দিচ্ছে । 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, রংপুরে এখন ব্যাপকভাবে এই আম চাষ হচ্ছে। এই আম চাষে খুব একটা পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় না হওয়ায় মানুষ আম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। 

তিনি বলেন, রংপুরের আট উপজেলায় এবার হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষ হয়েছে ১ হাজার ৮৫০ হেক্টরে। অন্যান্য জাতের আম চাষ হয়েছে ৩ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে।

Place your advertisement here
Place your advertisement here