• মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

  • || ২৩ শা'বান ১৪৪৫

Find us in facebook
সর্বশেষ:
ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ নিশ্চিত করুন: প্রধানমন্ত্রী কোনো অজুহাতেই যৌন নিপীড়ককে ছাড় নয়: শিক্ষামন্ত্রী স্পর্শকাতর মামলার সাজা নিশ্চিত করতে হবে: আইজিপি চলতি মাসেই একাধিক কালবৈশাখীর শঙ্কা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশদ্রোহীরা মানুষকে কষ্ট দেয়: নাছিম

ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কৃষক হানিফ

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৪ ডিসেম্বর ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

যান্ত্রিকতার যুগে যখন গরু দিয়ে হালচাষ বিলুপ্তির পথে, তখন দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ঘোড়া দিয়ে হালচাষ জীবিকা নির্বাহ করছে আব্দুল হানিফ নামে এক কৃষক। শুধু জীবিকা নির্বাহ নয়, ঘোড়া দিয়ে নিয়মিত হালচাষ করায় স্থানীয়দের মাঝে সাড়া ফেলেছে ওই কৃষক। উৎসুক মানুষ বলছেন, দীর্ঘকাল ধরে রণক্ষেত্রের পাশাপাশি মালপত্র বহন ও মানুষের বাহনে ঘোড়া ব্যবহৃত হয়ে এলেও কালের পরিক্রমায় তা বিলুপ্তির পথে। কিন্তু ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ বিরল ঘটনা।

চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেৎপুর ইউনিয়নের উত্তর পলাশবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল হানিফ। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করছেন তিনি। ওই উপজেলায় তিনি একমাত্র ব্যক্তি ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করেন। ঘোড়া দিয়ে হাল চাষে প্রতিদিন অসংখ্য উৎসুক জনতা তা  দেখতে ভীড় জমায়।

কৃষক আব্দুল হানিফ জানান, বাজারে গরুর চেয়ে ঘোড়ার দাম অনেক কম। বাজারে গরুর দাম বেশি। একটি গরুর হালের দাম প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। তিনি ৪৫ হাজার টাকায় বেশ কিছুদিন আগে নতুন দু’টি ছোট সাইজের ঘোড়া কিনেছিলেন। ঘোড়া দু’টি দিয়ে প্রতিদিন ৭৫ শতাংশ করে জমি চাষ করছেন। নিজের জমির পাশাপাশি ৩ বছর ধরে টাকার বিনিময়ে অন্যের জমিতেও হালচাষ করছেন তিনি।

হানিফ আরও জানান, গরুর চেয়ে ঘোড়া বেশি হাঁটে-চলে। ফলে একই সময়ে তিনগুন বেশি জমি চাষ করা যায়। প্রতিদিন সকাল ৮টায় শুরু করে বিকেল পর্যন্ত জমি চাষ করে দৈনিক ১৮’শ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। প্রতিদিন ঘোড়ার খাদ্য বাবদ খরচ হয় এক’শ টাকা। বাকি টাকা দিয়ে চার সদস্যের পরিবারের মৌলিক চাহিদাগুলো মিটছে।

জমির মালিক আকবর আলী জানান, ঘোড়া দিয়ে হাল দিলে জমি গভীরভাবে খনন হয়। সেই সঙ্গে মই দেওয়ার সময় জমির উঁচু-নিচু ভালোভাবে সমান হয়। এতে জমিতে পানি ধরে রাখা সহজ হয়। এছাড়া একদিনে অনেক বেশি জমিতে হালচাষ করা যায় বলে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়।

কথা হয় ওই এলাকার রবিন চন্দ্র দাস ও ইউনুস আলীর সাথে তারা বলেন, ঘোড়ার হালে ট্রাকটরের মতো গভীর চাষ হয় এবং খুব সহজে জমি প্রস্তুত হয়। তাই এ ঘোড়ার হালের বেশ চাহিদা রয়েছে।

চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ লুনার জানান, আমি দেখেছি হানিফ ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করেন। হানিফ একজন পরিশ্রমী মানুষ। এলাকার চাষিদের কাছে হানিফের ঘোড়ার হাল ও মইয়ের বেশ চাহিদা রয়েছে।
 

Place your advertisement here
Place your advertisement here