• শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৭ ১৪৩১

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

Find us in facebook

নেচে-গেয়ে কারাম উৎসব উদযাপন করল ‘ওরাওঁ’ সম্প্রদায়

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

প্রাচীনকাল থেকে উৎসবটি পালন করে আসছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ওরাওঁ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। উৎসবের দিনে ওরাঁও সম্প্রদায়ের মানুষ উপবাস করে কারাম গাছের ডাল কেটে আনেন। সেই ডালে তাদের স্থায়ী পূজা মণ্ডপে রেখে পূজা অর্চনা, নাচ-গান ও গল্প বলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব।

কারাম একটি গাছের নাম। ওরাঁও সম্প্রদায়ের মানুষ গাছটিকে পবিত্র এবং মঙ্গলের প্রতীক মনে করেন। আর এ উৎসবের মাধ্যমে তাদের পরিবারে ফিরবে স্বচ্ছলতা বলে মনে করেন তারা। বাংলা আশ্বিন মাসের শুরুতে এ উৎসবকে ঘিরে এলাকার বসবাসরত মানুষ নানা আয়োজনে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল ও টাকা তোলে আতিথিয়েতা করা হয় আমন্ত্রিত অতিথি ও আত্মীয়-স্বজনদের।

উৎসবটিকে ঘিরে আগে থেকে নানা প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন এ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। পরিবার ও আত্মীয় স্বজন নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেন সব বয়সী নারী-পুরুষেরা।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর এ ঐতিহ্যবাহী ও সামাজিক দিবসটি পালন করে এখানকার ওরাও সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা। তারা এখানে কারাম গাছের ডালকে তাদের রক্ষাকবজ মনে করে। তারা মনে করে এ গাছটির মাধ্যমে তারা তাদের জীবন রক্ষা করে। সেজন্য প্রতিবছর তারা এ উৎসবটি পালন করে। আজকে সারারাত তারা নানা সংস্কৃতি পালন করে আগামীকাল তারা কারাম গাছটি ভাসিয়ে দিবে।

কারাম পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ কেরকেটা বলেন, আদি সময় থেকে আমরা ওরাও আদিবাসীরা এ কারাম পূজাটি পালন করে আসছি। এ কারাম বৃক্ষকে পূজা করার মাধ্যমে আমরা মনে করি আমাদের সকল বিপদ-আপদ দূর হয়ে যাবে। আর এ পূজার মাধ্যমে দেশের মানুষের মঙ্গল হবে। এখানে ২০০৩ সাল থেকে আমরা এ কারাম উৎসবটি পালন করে আসছি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এ আয়োজনকে আরো মানসম্মত করে করার। কারন এটি আমাদের বড় একটি ধর্মীয় উৎসব। সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে আমরা ভালোভাবে এ উৎসবটি পালন করতে পারব।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুণাংশু দত্ত টিটো বলেন, এটি এ সম্প্রদায়ের মানুষের বড় ধর্মীয় উৎসব। এটিকে প্রাণবন্ত করতে আমরা সবসময় পাশে থাকব।

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রামকৃষ্ণ বর্ম্মন বলেন, কারাম উৎসবকে উজ্জীবিত করতে সবসময় পাশে ছিলেন জেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে উৎসবটি পালনে আরো পৃষ্ঠপোষকতার বাড়ানো হবে।

এক যুগের বেশি সময় ধরে এ কারাম উৎসব পালন করে আসছেন জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ। আর এ উৎসব ঘিরে পাঁচপীরডাঙ্গা, সালন্দর, জামুরীপাড়াা, তেলিপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ মিলিত হন। শুরু হওয়া উৎসবটি চলবে তিনদিন।

Place your advertisement here
Place your advertisement here