• রোববার ২৬ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩১

  • || ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪৫

Find us in facebook

তিস্তায় তীব্র ভাঙন

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

সম্প্রতি হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিস্তা পাড়ের লোকজন। পানি কমে যাওয়ায় তিস্তায় অব্যাহত নদী ভাঙনে এখন তারা রয়েছেন ভাঙন আতঙ্কে। 

লালমনিরহাটে দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদী ভাঙনে দিশেহারা পড়েছেন তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। 

লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ বাগডোরাসহ ও আদিতমারী উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকার কমপক্ষে ৮ থেকে ১০টি পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। এসব এলাকার একরের পর একর ফসলিজমি, বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। হুমকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। অনেকেই নিজেদের বসতভিটা হারিয়ে ঠাঁই নিচ্ছেন বাঁধে ও অন্যের জমিতে। 

তিস্তার পানি নেমে যাওয়ায় নদী ভাঙনের কবলে পড়া লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউপির বাগডোরার বাসিন্দা আব্দুল গফুর জানান, পৈতৃক ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে অনেক আগেই। এ পর্যন্ত ৪ বার বাড়ি সরিয়ে অন্যের জমিতে কয়েকবছর থাকার পর অনেক কষ্টে অর্থ জমিয়ে জায়গা কিনে বাড়ি করেছেন তিনি। এ বছর সেই বাড়িটিও নদী ভাঙনের শিকার হয়ে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেল। 

অশ্রুশিক্ত কণ্ঠে গফুর আরো জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন প্রায় প্রতিদিন এসে ভাঙনের দৃশ্য দেখে যাচ্ছে। ভাঙনতো চলছেই। বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে ঠেকাতেই আমার সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। 

গফুর বলেন, আমার বাড়ি পুরোটা ভেঙে গেলে আরো অনেক বাড়িঘর, মসজিদসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদী ভাঙনের কবলে পড়বে।

একই এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, গত দুইদিন আগে ১ কিলোমিটার দূরে নদী ছিল। ভাঙতে ভাঙতে নদী তার বাড়ির পেছনে চলে এসেছে। সকাল থেকে ৫-৬টা বাড়ি ভাঙনের শিকার হয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন লোকজন।

পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা শফিকুল ইসলাম নামের একজন জানান, রোজগারের জন্য ঢাকায় ছিলাম, বাড়ির লোকজন ফোনে জানালো নদীর অব্যাহত ভাঙনে জমি, বাড়ি ও গাছপালা সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা চন্ডিমারীর বাসিন্দা খয়বর জানান, গতবছর নদী ভাঙনে বাড়ি সরিয়ে নিয়েছি। এবারেও নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। হয়ত আবার বাড়ি সরিয়ে নিতে হবে।

একই রকম মন্তব্য করেন বাগডোরা, চন্ডিমারী, রাজপুরসহ ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন। সবার দাবি বন্যার সময় ত্রাণ বা অর্থ সহায়তা না দিয়ে নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ অথবা নদী খননের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের।

খুনিয়াগাছ ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান মন্ডল বাদল বলেন, নদীর গভীরতা কম থাকায় অল্প পানিতেই ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও লোকালয়ে পানি ঢুকে বন্যায় নানা দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। তাছাড়া পানি কমলে তো ভাঙন চলেই। এবারেও বাগডোরায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।

‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও’ সংগ্রাম পরিষদের লালমনিরহাট জেলা সভাপতি গেরিলা লিডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, তিস্তার গর্ভে পলি পরায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অল্প পানিতে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর আবার শুরু হচ্ছে তীব্র নদী ভাঙন। এতে প্রতিবছর ভূমিহীন ও গৃহহীনের সংখ্যা বাড়ছে। নদী ভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে দ্রুতই স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তার।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, দ্বিতীয় দফায় তিস্তার পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্তমানে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নেমে যাওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী এলাকা বাগডোরা, চন্ডিমারী, মহিষখোচাসহ বেশকিছু পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা আপদকালীন কাজ হিসেবে এসব পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি। 

Place your advertisement here
Place your advertisement here