• রোববার ২৬ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩১

  • || ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪৫

Find us in facebook

বেরোবির প্রথম পুলিশ ক্যাডার অংকুর দে

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী অংকুর দে। সম্প্রতি তিনি ৪১তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি বেরোবির প্রথম পুলিশ ক্যাডার।

অংকুর দে’র বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার এস আর পাড়ায়। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। তার বাবা অসীম দে, একজন ব্যবসায়ী। আর মা অঞ্জনা দে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী।

অংকুর দে ২০০৮ সালে পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০১০ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৪.৬০ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়ে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষাতেই সাফল্যের সঙ্গে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি রূপালী ব্যাংকের একটি শাখায় অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

অংকুর দে বলেন, পুলিশের ইউনিফর্ম আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল পুলিশ হওয়ার। আমি নিজেকে সেভাবেই ভাবতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন বিসিএস নিয়ে তেমন ধারণা না থাকলেও নিজ উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করতাম। এসব ব্যাপার নিয়ে আমার নিজস্ব চিন্তাভাবনা তৈরি হয়েছিল। এগুলো আমাকে বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় খুব সাহায্য করেছে।

মাস্টার্স শেষ করে আমি চাকরির পড়াশোনা শুরু করি। প্রথমে রংপুর এবং পরবর্তীতে ঢাকায় চাকরির প্রস্তুতি নিই। আমি স্মার্ট ওয়ার্কের প্রতি মনোযোগী হই। প্রথমেই বিসিএসের সিলেবাসের ওপর একটি সম্যক ধারণা নিই। তারপর বিগত সালের প্রশ্নগুলো সলভ করে বিসিএসের জন্য কী কী গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো নোট করি। আমি ঢাকায় অবস্থানকালে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ ঘণ্টা পড়তাম। একটা সময় পড়াশোনাই নেশা হয়ে গিয়েছিল। নিজের কাজে মনোযোগী ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, যখন রেজাল্ট হয় তখন আমি ট্রেনে। ভেবেছিলাম আমার নন-ক্যাডার আসবে। তাই আমি নন-ক্যাডার লিস্টে আমার রোল চেক করি। ওই লিস্টে রোল না পেয়ে আমি বিমর্ষ হয়ে পড়ি। তখন আমার স্ত্রী মোবাইল নিয়ে রেজাল্ট খুঁজে বের করে দেখায় আমি পুলিশ ক্যাডারে ৩৯তম হয়েছি। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বারবার রেজিস্ট্রেশন নম্বর মিলিয়ে দেখলাম। এসএমএস করে রেজাল্ট দেখে নিশ্চিত হলাম। এরপর কয়েকজন বন্ধুকে দিয়েও চেক করালাম।

অংকুর দে বলেন, আমার পড়াশোনার সবথেকে বড় অনুপ্রেরণা ছিল আমার বাবা। তিনি একেবারে ছোটবেলা থেকেই প্রতিনিয়ত এমনকি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও আমার পড়াশোনার খোঁজ নিতেন। আমার মায়ের খুব ইচ্ছা ছিল তার ছেলেকে তিনি বড় অফিসার হিসেবে দেখবেন। মায়ের ইচ্ছা আমাকে এই কঠিন পথে চলতে সাহস জুগিয়েছে। এছাড়া আমার হতাশার সময় আমার স্ত্রী সব সময়ই আশার গল্প করেছে। আমার খালাতো ভাই সেতুও আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছে।

তিনি চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রথমেই একটা লক্ষ্য স্থির করতে হবে। নিজের ব্যক্তিত্ব, স্বপ্ন, যোগ্যতা আর পরিবারের কথা ভেবে লক্ষ্য স্থির করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। একবার লক্ষ্য স্থির করলে পেছনে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই। নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে নিজের সর্বোচ্চটা দিলে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবেই। তবে একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে যে বিসিএস শুধুই একটি চাকরি। এটার জন্য আপনি আপনার পরিবার, কাছের আত্মীয়স্বজন, খুব কাছের বন্ধুদের দূরে ঠেলে দেবেন না। তাদেরকেও সময় দেবেন। নিজের জীবনকে সুস্থ ও ইতিবাচকভাবে উপভোগ করবেন। জীবনে আনন্দ-বেদনা যাই আসুক না কেন এনজয় করবেন। ভেঙে পড়বেন না।

অংকুর দে’র মা অঞ্জনা দে বলেন, ছেলে বিসিএস ক্যাডার হওয়ায় আমি কতটা খুশি হয়েছি তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। ছেলে যখন এ খবর নিয়ে আমার সামনে এলো তখন খুশিতে ছেলেকে ধরে কান্না করেছি। অংকুর দে অনেক পরিশ্রম করেছে, যার ফলে সৃষ্টিকর্তা তাকে এ সফলতা দিয়েছেন।

অংকুর দে’র বাবা অসীম দে বলেন, আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল অংকুর একদিন ভালো কিছু করবে। আমরা বাবা-মা হিসেবে তাকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় করেছি। বাকিটা তার পরিশ্রমের ফল। অংকুর এখন আমাদের পরিবারসহ এলাকাবাসীর গর্বের বিষয়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান ড. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিভাগ (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বিষয় যে আমাদের একজন শিক্ষার্থী (অংকুর দে) বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। এটি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। অংকুর দে যেহেতু আমাদের বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে সেহেতু আমরা আশা করছি পরবর্তী ব্যাচগুলো থেকেও শিক্ষার্থীরা সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাবে এবং দেশের সেবায় অবদান রাখবে।
 

Place your advertisement here
Place your advertisement here