• রোববার ২৬ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪৩১

  • || ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪৫

Find us in facebook

ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে প্রণোদনার সার ও বীজ উদ্ধার

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ কৃষি প্রণোদনার ধানবীজ ও রাসায়নিক সার উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আলমগীর হোসেন নামের ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে এসব ধানবীজ ও সার উদ্ধার করা হয়।

গঙ্গাচড়া থানার পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গুদাম থেকে দুটি ভ্যানে করে ১২ বস্তা সার ও ১৪ বস্তা ধানবীজ উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বীজ ও সার বহনকারী ভ্যান দুটি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের চোখে পড়ে। বিষয়টি সন্দেহ হলে তিনি ভ্যান দুটি আটক করেন। চালকদের কাছে জানতে চান ধানবীজ ও সারগুলো কোন কৃষকের, কার কাছে যাচ্ছে? ভ্যানচালক কৃষকদের নাম বলতে না পারায় তাদেরকে ইউএনওর কার্যালয়ে নিয়ে যান।

ইউএনওর কার্যালয়ে ভ্যানচালক মিঠু মিয়া ও শরিফুল ইসলাম জানান, এই সার ও ধানবীজ কৃষকের নয়। এগুলো কৃষি অফিস থেকে নেওয়ার জন্য আলমগীর পাঠিয়েছেন। ভ্যানচালকদের কথা অনুযায়ী ইউএনও নাহিদ তামান্না বিষয়টি গঙ্গাচড়া থানা পুলিশকে জানান। পরে সন্ধ্যায় গঙ্গাচড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মন্তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে আলমগীরের গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়ার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তার একটি ঘর থেকে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় আরও ১৫৩ বস্তা উফশী জাতের ধানবীজ ও এক বস্তা পাটবীজ উদ্ধার করেন। তবে অভিযানের খবরে আলমগীর মিয়াসহ বাড়ির লোকজন পালিয়ে যান।

বাড়ি ও ভ্যান থেকে মোট ১৬৭ বস্তা উফশী জাতের ধান (প্রতি বস্তা ১০ কেজি), এক বস্তা পাটবীজ (কেজির পরিমাণ পাওয়া যায়নি) ও ১২ বস্তা (প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি) টিএসপি ও এমওপি সার উদ্ধার করা হয়। ধান ও পাটবীজের গায়ে লেখা ছিল বিক্রয়ের জন্য নহে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ তামান্না বলেন, ওই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হবে। ধানবীজ কীভাবে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গেল তা নিয়েও তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। অভিযোগ ওঠা ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন পলাতক থাকায় তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, আমি দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে দিয়ে হাঁটছিলাম। এ সময় দুটি ভ্যানে ধানবীজ ও সার নিয়ে যাওয়া হলে আমার সন্দেহ হয়। পরে তাদেরকে আটক করে ইউএনওর কার্যালয়ে নিয়ে যাই। ভ্যানচালকরা এক ব্যক্তির নাম বলেন। পরে ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণ ধানবীজ ও সার উদ্ধার করে।

বীজ ও সার উদ্ধারের বিষয়ে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, এই ধানবীজ ও সার সবাই এভাবেই কৃষি অফিস থেকে নিয়ে যায়। এর ভাগ পান চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও কতিপয় সাংবাদিকরাও। কিন্তু একটি মহলের স্বার্থে আঘাত লাগায় তারা আমার ধানবীজ আটকে দিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, গঙ্গাচড়ার ধান, গম, ভুট্টা, সরিষার বীজসহ রাসায়নিক সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মারুফা ইফতেখার সিদ্দিকার সঙ্গে যোগসাজশ করে কিছু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের প্রণোদনার এসব সার ও বীজ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি করেন। কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ওই দুই ভ্যানে সার ও ধানবীজ তুলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে রাত ৮টার দিকে উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুরের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মারুফা ইফতেখার সিদ্দিকার মুঠোফোনটিও বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Place your advertisement here
Place your advertisement here