• বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Find us in facebook
সর্বশেষ:
বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত ৭টায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল মা-মেয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে লোডশেডিংয়ের রুটিন করার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ডিভাইস আমরা রপ্তানি করব: প্রধানমন্ত্রী

`‌যে কোন দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকবে আওয়ামী লীগ` 

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২২  

Find us in facebook

Find us in facebook

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে কোন দুর্যোগে আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের পাশে থাকে। তিনি বলেন, ‘সরকার বা বিরোধী দল যেখানেই আওয়ামী লীগ থাকুক না কেন, আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সর্বদা সারাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের জন্য কাজ করছেন। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য যে কোন দুর্যোগে আমরা সব সময় মানুষের পাশে থাকি এবং মানুষকে আমাদের সহায়তা অব্যাহত রাখব।

সিলেট সার্কিট হাউসে মঙ্গলবার সিলেট বিভাগের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। খবর বাসস’র

তিনি বলেন, যে কোন দুর্যোগে আওয়ামী লীগ অন্যদের তুলনায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। সর্বোপরি আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে যাবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কারণ, তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধারে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে যান, যেখানে অনেকেই পৌঁছাতে পারেননি এবং ওই এলাকার ছবি তাকে পাঠিয়েছেন যা উদ্ধার প্রক্রিয়া সহজ করেছে। ‘সেই ছবি আমি সেনাপ্রধান, আমাদের অফিস, বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। তারা মানুষকে উদ্ধার করতে পেরেছে,’ বলেন তিনি। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও সিলেট সেনানিবাসের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং বন্যা ও এর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা তুলে ধরেন। বিভাগীয় প্রশাসন জানিয়েছে, চারটি জেলার ৩৩ উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেখানে ৪৫ লাখের বেশি মানুষ বন্যার পানিতে ডুবে আছে এবং ৪ দশমিক ১৪ লাখের বেশি মানুষ ১২৮৫টি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসার জন্য ৩শ’টিরও বেশি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে এবং ২৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, নগদ ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং ১৩০৭ টন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে ।

অন্যদিকে বন্যায় ৭৪ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং ৪০ হাজার পুকুর ও হ্যাচারি বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যাতে আনুমানিক ১৪২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শেখ হাসিনা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে একগুচ্ছ নির্দেশনা দেন।

১৯৯৮ সালের বন্যার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তারা সহজে এসব খাবার কয়েকদিন সংরক্ষণে রেখে খেতে পারেন। তিনি এই অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ায় যে কোনভাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন এবং বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং স্যালাইন বিতরণ করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের মতো হাওড় এলাকায় রাস্তার মাটি ভরাটের পরিবর্তে উঁচু রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে এ ধরনের দুর্যোগের সময় গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায়। কুশিয়ারা নদীর ড্রেজিং এবং নাব্য বৃদ্ধি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীর নাব্য রক্ষায় তিনি একবারের জন্য ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের পক্ষে কিন্তু নদীর নাব্য নিশ্চিত করতে বছরের পর বছর সেখানে রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় বৃহত্তর সিলেট জেলার অধিকাংশ বাড়ি ঘরের সামনেই বড় বড় ড্রেন এবং বিল ছিল কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সে ধরনের কোন ড্রেন বা জলাশয় এখন আর নেই বরং জায়গাগুলো বিভিন্ন বাড়ি-ঘর ও স্থাপনায় দখল হয়ে গেছে। ময়মনসিংহের অবস্থাও এই সিলেটের মতোই।

তিনি বলেন, ‘এটা মাথায় রেখেই আমাদের উন্নয়ন কর্মকা- চালাতে হবে।’

বন্যার সময় খাদ্যের গুদামে যাতে পানি প্রবেশ করতে না পারে এবং খাদ্য ভা-ার থেকে যাতে সহজে পরিবহন করা যায় সেজন্য ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। বন্যার সময় বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঝড় ও বন্যার সময় বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় মূলত বিদ্যুতস্পৃষ্টে মৃত্যুর মতো নতুন কোন দুর্যোগ এড়াতে। পানি নামতে শুরু করলে ডায়রিয়া ও জ্বরের মতো সংক্রামক রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সিলেট অঞ্চলের পুরো বন্যাকবলিত এলাকা ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। দেশের মাঝামাঝি অংশে বাংলা শ্রাবণ মাসে বন্যা হতে পারে এবং দক্ষিণাঞ্চলে সাধারণত ভাদ্র মাসে বন্যা হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুরো সিলেট অঞ্চল পরপর তিনবার বন্যার সম্মুখীন হয়েছে। এই বন্যাই শেষ নয়। কাজেই বন্যা মোকাবেলায় আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তিনি বন্যার সময় নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ল্যান্ড ফোন লাইনগুলো সক্রিয় রাখতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বন্যা দুর্গত এলাকায় সময়মতো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করার জন্য জেলা প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, গত সোমবার তিনি জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বন্যা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি সিলেট যাওয়ার পথে হেলিকপ্টারে খুব নিচ দিয়ে সিলেট, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের কাছে তার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে সহায়তা হস্তান্তর করেন এবং পরে কিছু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও বিতরণ করেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, সিনিয়র পানি সম্পদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান সার্কিট হাউসে উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী ॥ 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ সংলগ্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ‘লো ফ্লাই মোড’ বজায় রেখে উড়তে থাকে। পরে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সিলেট সার্কিট হাউসে যান, সেখানে তিনি বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে বন্যার পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা সমুদ্রে পরিণত হওয়া বিশেষ করে সিলেটের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার্তদের সরিয়ে নিতে এবং অসহায় মানুষকে সাহায্যের জন্য বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে কর্তৃপক্ষ সেনা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানায়। একইসঙ্গে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ইউনিটগুলোকেও ডাকা হয়েছে।

সিলেটে দুটি মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী ॥ 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল (র:) ও হযরত শাহ পরাণ (র:) এর মাজার জিয়ারত করেন। শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সকালে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও তৎসংলগ্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে করেন। পরে অপরাহ্নে প্রথমে সিলেট বিভাগীয় শহরে হযরত শাহজালাল (র:) এর মাজার জিয়ারত করেন। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত ও ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহ পরাণ (র:) এর মাজার পরিদর্শন করেন।

তিনি সেখানেও পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত ও ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাত করেন।

Place your advertisement here
Place your advertisement here