• মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ২১ ১৪৩০

  • || ২৩ শা'বান ১৪৪৫

Find us in facebook
সর্বশেষ:
ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ নিশ্চিত করুন: প্রধানমন্ত্রী কোনো অজুহাতেই যৌন নিপীড়ককে ছাড় নয়: শিক্ষামন্ত্রী স্পর্শকাতর মামলার সাজা নিশ্চিত করতে হবে: আইজিপি চলতি মাসেই একাধিক কালবৈশাখীর শঙ্কা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশদ্রোহীরা মানুষকে কষ্ট দেয়: নাছিম

সেন্টমার্টিন সৈকতে এগুলো জেলিফিশ না অন্য কিছু?

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪  

Find us in facebook

Find us in facebook

রাতের আকাশ থেকে যেন ঝলমলে তারা খসে পড়েছে সাগরপাড়ে। যে আলোয় অনন্য রূপ পেয়েছে সৈকত। আলো ঝলমল এমন দৃশ্যের দেখা মিলছে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে।

সম্প্রতি ফেইসবুকে ভাইরাল হয় এমন কিছু ছবি ও ভিডিও, যেখানে দেখা যাচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর বিচে রাতের বেলায় দেখা মিলছে জোনাকি পোকার সাদৃশ্য নীলছে আলোর বিচ্ছুরণ।

সেন্টমার্টিনের স্থানীয় কিছু বাসিন্দা এ নিয়ে গত বেশ কয়েদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে নেটিজেনের মাঝে সৃষ্টি হয় কৌতূহল, আলোচনা-সমালোচনার। তবে ফেসবুকে অনেকেই এটিকে জেলিফিশ বলে দাবি করেছেন।

সেন্টমার্টিনের স্হানীয় বাসিন্দা সুমন জানান, সেন্টমার্টিনের উত্তর বিচ এলাকায় এ রকম নীল আলোর দেখতে পাই। যা ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাগর পাড়ে আঁচড়ে পড়ছিলো। যেখানে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়। এছাড়া সেন্টমার্টিনের আরেক বাসিন্দা শেফালি তার ফেইসবুক আইডিতে শনিবার একটি ভিডিও প্রকাশ করে যেখানে দেখা যায় নীল আলোর বিচ্ছুরণ সাদৃশ্য।

মূলত সাগর পাড়ে আঁচড় পড়া নীলছে আলো সাদৃশ্য জিনিসগুলো মূলত কী? জেলিফিশ না অন্যকিছু? এ নিয়ে কথা হয় প্রখ্যাত সমুদ্র বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দারের সঙ্গে। তিনি জানান, নীলছে আলো মতো বিষয়টি মূলত ‘বায়োলুমিনেসেন্স’। বায়োলুমিনেসেন্স হলো এক প্রকার শীতল আলো যা কোনো জীবন্ত জীবের দেহ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। যে সমস্ত জীব বায়োলুমিনেসেন্স তৈরিতে সক্ষম তাদেরকে বায়োলুমিনেসেন্ট জীব বলা হয়।

তিনি আরো জানান, বায়োলুমিনেসেন্স তৈরি হতে হলে বিশেষ কিছু জীবদেহের লুসিফেরিন এবং লুসিফেরেজ নামে দুই ধরনের রাসায়নিক পদার্থ একত্রিত হয়। প্রোটিন লুসিফেরেজ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, লুসিফেরিনকে বেঁধে রাখে এবং এর জারণকে সহজতর করে, যার ফলে শক্তি বা আলো উৎপন্ন হয়। সেন্টমার্টিনের এই বায়োলুমিনেসেন্স জু-প্লাংকটন, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট।

সমুদ্র বিজ্ঞানী বেলাল হায়দার আরো জানান, বায়োলুমিনেসেন্স তৈরি করে এমন কিছু সামুদ্রিক জীব হলো-ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, স্কুইড, জেলিফিশ, ফায়ারফ্লাই,গ্যাস্ট্রোপোড, ছোটবড় বিভিন্ন মাছসহ খুব অল্প সংখ্যক হাঙ্গর যারা সমুদ্রের এমন গভীরতায় বসবাস করে যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না।

তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের সৈকতের গভীরতা কম এবং জীব দ্যুতি ছড়াতে পারে এমন সামুদ্রিক জীব সমুদ্রের গভীরতায় বাস করে সেহেতু আমাদের সৈকতে সচরাচর দেখা যায় না। তবে তাপমাত্রা ঘনত্ব ইত্যাদি কারণে সমুদ্রের নীচের পানি উপরে উঠে এলে জীব দ্যুতি বা বায়োলুমিনেসেন্ট বৈশিষ্ট সম্পন্ন ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক উপরে উঠে আসে এবং ঢেউয়ের সঙ্গে সৈকতে আছড়ে পড়লে তা আমাদের দৃশ্যমান হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন সাগর মহাসাগরের সৈকতে রাতের বেলায় বায়োলুমিনেসেন্সের অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্ব দক্ষিণের শেষ স্থানে অবস্হিত। যা নয়নাভিরাম সৌন্দর্য অবলোকনের ও ভ্রমণের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা।

Place your advertisement here
Place your advertisement here