• শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৬ ১৪৩১

  • || ০৯ শাওয়াল ১৪৪৫

Find us in facebook
সর্বশেষ:
মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ইতিহাসে অনন্য: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা হস্ত‌ক্ষেপ করবে না: ওবায়দুল কাদের লালমনিরহাটে যুবলীগ কর্মীর পায়ের রগ কাটলেন যুবদল নেতা বাসার ছাদ থেকে পড়ে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদ-নববর্ষে ১০ জন নিহত, আহত ২ শতাধিক

কাউনিয়ায় ‘মরা’ সন্তানকে বাঁচাতে কোলে নিয়ে ঘুরছেন মা

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩  

Find us in facebook

Find us in facebook

মাত্র ১৭ দিন আগে জন্ম নেয়া সন্তান বুকে নিয়েই নিজ বাড়িতে যান মা। কিন্তু মেলেনি ঠাঁই। নাড়িছেঁড়া ধনকে বিক্রি করে দিতে বলেন সৎবাবা। তবে সন্তান না বেচে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে থাকেন মা। এর মধ্যেই কনকনে শীতে পাঁচদিন আগে মারা যায় শিশুটি। তবু কোল থেকে নামাননি গর্ভধারিণী। বাঁচানোর আশায় মৃত সন্তান কোলে নিয়েই ঘুরছেন দিগ্বিদিক।

এমনই দৃশ্য দেখা মিলেছে রংপুরে। সোমবার নগরীর জাহাজকোম্পানি মোড় ও রাজা রামমোহন মার্কেটের সামনে এ নারীকে দেখে ভিড় করেন আশপাশের মানুষ। খোঁজখবর নিচ্ছেন কাউন্সিলর ও পুলিশ সদস্যরাও।

জানা গেছে, ওই নারীর বাড়ি জেলার কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর এলাকায়। বিয়ে না হলেও এক অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ১৭ দিন আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় নবজাতকের জন্ম দেন তিনি। এরপর সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে গেলে মারধর করেন সৎবাবা। শিশুটিকে বিক্রিও করে দিতে বলেন।

এরপর সন্তানকে নিয়ে রংপুর শহরে চলে আসেন ওই নারী। ঠান্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করতে থাকেন। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে তাকে শুক্রবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু এতেও হাল ছাড়েননি মা। মৃত সন্তানকে বাঁচিয়ে তোলার আশায় নগরীর মাহিগঞ্জে এক কবিরাজের কাছে ছুটে যান। কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই মাহিগঞ্জ বাজার এলাকায় মৃত সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে থাকেন এ নারী।

ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এ নারীর কোলে থাকা শিশুটি মৃত কিনা তা পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নগরীর ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান বলেন, এই নারী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। তার নবজাত শিশুটি মারা গেছে। অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ওই নারী কাউকে কিছু না বলে কোথায় চলে গেছে আমরা বলতে পারছি না।

Place your advertisement here
Place your advertisement here