অবকাঠামোর উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা
– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Find us in facebook
আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরের বছর গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ শহরের সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এক হাজার ৮২৫ কোটি টাকা খরচে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৭ সালে। চার লেনের মহাসড়ক হওয়ার পর ওই এলাকায় কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সেটি নিয়ে গত বছর গবেষণা করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। সেই গবেষণায় উঠে এসেছে, সড়কটি চার লেনে উন্নীত হওয়ার আগে সেখানকার মানুষের মাসিক গড় আয় ছিল পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। এখন সেটি বেড়ে ২৫ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহনে আগে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তেন কৃষকরা, সেই ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলেছে তাঁদের। পণ্য পরিবহনে খরচও কমেছে। মিলেছে কর্মসংস্থানের সুযোগ, চিকিৎসাসেবায় এসেছে সহজলভ্যতা। সড়ক দুর্ঘটনা কমে গেছে। রাস্তার পাশে বেড়েছে জমির দাম। দিন দিন বাড়ছে শিল্প-কারখানা, বিভিন্ন অফিসের শাখাও তৈরি হচ্ছে। মহাসড়কটি গাজীপুর, শ্রীপুর, ভালুকা, ত্রিশাল ও ময়মনসিংহ সদরের মানুষের জীবনমান পুরোপুরি বদলে দিয়েছে বলে আইএমইডির ওই গবেষণায় উঠে এসেছে।
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি মেগাপ্রকল্পে শুধু প্রত্যক্ষ উপকারই হয় না, পরোক্ষ অনেক ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়। একটি প্রকল্পকে ঘিরে বহুমুখী অন্তর্জাল তৈরি হয়। সমাজ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একটি প্রকল্পের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকে। সড়ক কিংবা ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্প হলে সেখানে প্রচুর নির্মাণ শ্রমিকের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। সড়ক নির্মাণ করতে রড, সিমেন্ট, বালুসহ অন্যান্য উপকরণের প্রয়োজন হয়। মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এর মাধ্যমে টাকার লেনদেন হয়। বছর শেষে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে বর্তমান সরকারের। এরই অংশ হিসেবে চার বছর আগে ২০১৬ সালে পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৬১ জেলায় ২৫ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য একটি মেগাপ্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। এক হাজার ২২৮ কোটি টাকা খরচের প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় গত বছর। বিদ্যুৎ সংযোগের আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে, যেগুলো চলমান।
বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, সারা দেশে এখন বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর হার ৯৫ শতাংশের ওপরে। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর সারা দেশে মানুষের জীবনমানের কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সেটি দেখার জন্য আরেকটি গবেষণা করেছে আইএমইডি। এতে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর ঘরে ছেলে-মেয়েরা বেশি সময় পর্যন্ত পড়াশোনা করছে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বেড়েছে ৬৭ শতাংশ। রাতে কাজের সুবিধা বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। চুরি, ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধ আগের চেয়ে ৬২ শতাংশ কমেছে। হাট-বাজারের উন্নতি হয়েছে ৬১ শতাংশ। নারীদের কাজের সুযোগ বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার কারণে হাঁস-মুরগির খামার ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ঘটেছে ৪০ শতাংশ। একই সঙ্গে মৎস্য চাষ বেড়েছে ২৫ শতাংশ।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সড়ক যোগাযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সারা দেশে আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।’
দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে অবকাঠামো দুর্বলতাকে দায়ী করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। অবকাঠামো উন্নয়নে গত এক দশকে বেশ কয়েকটি মেগাপ্রকল্প হাতে নেয় সরকার, যার মধ্যে একটি হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সোয়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজ এরই মধ্যে ৮১ শতাংশ শেষ হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হলে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বাড়বে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে বদলে যাবে পুরো দক্ষিণাঞ্চল।
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পদ্মা সেতুর পাশাপাশি পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রো রেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কক্সবাজার থেকে মিয়ানমারের ঘুনধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল নির্মাণ, রাজধানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণের মতো মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।
গত এক দশকে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে প্রথম ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে তাঁর নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ফের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছে। গত বছর আবারও প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে ২০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাঁদের নিজ নিজ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের গড় জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
সড়ক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের ৪৮৪টি উপজেলায় ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দুই হাজার ৯৬২টি আবাসন ভবন নির্মাণ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বীর নিবাস’।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘কোনো একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে ওই অঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রা যেমন থাকে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু অর্থনৈতিক পরিবর্তনই নয়, সামাজিক পরিবর্তনও আসে। গত এক দশকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে শুধু মানুষের যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয় না, এর সঙ্গে পণ্য পরিবহনে খরচ কমে আসে। ফসল নষ্ট কম হবে। শিল্পের কাঁচামাল কম সময়ে আনা-নেওয়া সম্ভব হবে।’
উল্লেখ্য, সড়কটি যখন দুই লেনের ছিল, তখন যাতায়াতে সময় লাগত চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা। প্রতিদিন যানজটে নাকাল হতো যাত্রীরা। প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটত। সড়কটি চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর যাতায়াতে যেমন সময় লাগছে আগের চেয়ে অর্ধেক, তেমনি বদলে গেছে ওই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা।
- নীলফামারীর টুপামারী ইউনিয়নের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামীকাল
- নীলফামারী পৌরসভার উদ্যোগে জাতীয় স্যানিটেশন মাস উদযাপন
- কুড়িগ্রামে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা
- তেঁতুলিয়ায় মাটির নিচে লুকানো ৩ লক্ষ টাকার মালামাল উদ্ধার, আটক ৪
- ঠাকুরগাঁওয়ে জুট মিলে অগ্নিকাণ্ড: কোটি টাকার উৎপাদিত পণ্য ভস্মীভূত
- ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
- কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের ৫৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন
- কুড়িগ্রামে ভস্মীভূত করা হলো অচল ঘোষিত দেড় কোটি টাকার স্ট্যাম্প
- লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু
- প্রতি মাসেই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা দেবে সরকার
- বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে বিশ্বের অনেক দেশ ইমপ্রেস হয়- ভূমিমন্ত্রী
- পোল্ট্রি-ডেইরি শিল্পের সুরক্ষায় নীতিমালা তৈরি করছে সরকার
- পঞ্চগড়ে অবসরের ২০ বছর পরও পেনশনবঞ্চিত পাউবো কর্মচারী
- রংপুরে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের ১৩ বছর পর গৃহকর্তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- দিনাজপুরে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই
- হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু
- স্কুল বাস সার্ভিসে শতভাগ নারী চালক সম্পৃক্ত করা জরুরি- কাদের
- কৃষকদের থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল কিনবে সরকার
- দিনাজপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জন করোনায় আক্রান্ত
- করোনায় দেশে নতুন মৃত্যু ২৩, আক্রান্ত ১৪৯৩
- সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাবে সরকার
- অবশেষে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সুখবর দিলেন সরকার
- দেশের সব নাগরিককে বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন দেবে সরকার
- দেশের মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তা দিয়ে স্বস্তিতে রাখতে চায় সরকার
- রেলে গতি বাড়াতে যুক্ত হচ্ছে ১১শ` কোটি টাকার বগি ও ইঞ্জিন
- প্রবাসীদের পুনর্বাসনে ৭০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করবে সরকার
- সময় বাড়লো এলেঙ্গা-রংপুর চার লেন প্রকল্পের
- নুরকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করছে বিএনপি
- সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের পরীক্ষামূলক রেল ইঞ্জিন ভারতে
- দলীয় কোন্দলের কারণে বারবার নেতিবাচক শিরোনাম হচ্ছে বিএনপি
- রাসেলের স্বপ্ন ছিল সে সেনাবাহিনীর অফিসার হবে- প্রধানমন্ত্রী
- রংপুরে প্রথমবারের মতো চালু হলো সুপারশপ ‘স্বপ্ন’
- কুড়িগ্রামে ৫ কন্যা সন্তানের পর আবারো একসাথে ৩ কন্যার জন্ম
- ১০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক ক্যানসার হাসপাতাল হবে রংপুরে
- পাঁচ দেশ থেকে আসছে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ
- `সিনহা রাশেদের মৃত্যুতে দুই বাহিনীর সম্পর্কে চিড় ধরবে না’
- সেই বুলেট বিক্ষত বাসগৃহটি আজ স্মারকচিহ্ন আর কবরস্থানটি তীর্থভূমি
- লালমনিরহাটে আ’লীগ নেতার উদ্যোগে ঝুলন্ত সেতু তৈরি
- কুড়িগ্রামে ৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
- টেকসই উন্নয়নে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: সায়মা
- বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে ফ্রেশ হতে হবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ
- সৈয়দপুরে ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’: স্বপ্ন এখন শিখর চূড়ায়
- প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতায় শতবর্ষী পরিকল্পনা অনুমোদন
- এ বছরই বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার টাকা
- শত বছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে ডুবল রংপুর
- ২১ সেপ্টেম্বরের পর স্কুল খোলার অনুমতি দিয়েছে ভারত
- ১২৫ পিচ ইয়াবাসহ লালমনিরহাটে বিএনপি নেতা গ্রেফতারের পর কারাগারে
- এ পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১২৭১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ
- আগস্ট মানে হারানোর বেদনা, হায়নাদের অট্টহাসি আর ষড়যন্ত্রের গন্ধ
- ‘সরকার একটি মানুষকেও না খেয়ে থাকতে দেবে না’


