• মঙ্গলবার   ২৯ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৯

  • || ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

Find us in facebook
সর্বশেষ:
দশ টাকায় টিকিট কেটে চক্ষু পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষ দুর্নীতিবাজদের ফের ক্ষমতায় দেখতে চায় না: হানিফ সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছর পরপর সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হবে না আগামী অক্টোবরে চালু হবে থার্ড টার্মিনাল ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি জানানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মুমিনের রাতের ৭ আমল

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  

Find us in facebook

Find us in facebook

প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত, রাতে ঘুমানোর আগে ৭টি আমল নিয়মিত করা। আমলগুলো হলো- অজু করা, আয়াতুল কুরসি ও সুরা বাকারা শেষ ২ আয়াত পড়া, সুরা মুলক পড়া এবং ইসতেগফার করা, তিন কুল (সুরা নাস, ফালাক্ব ও ইখলাস) পড়া,সুরা কাফেরূন ও সুরা ফাতেহা পড়া, তিন তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার) পড়া এবং ঘুমানোর আগে দোয়া পড়া এবং ডান কাতে শোয়া।
 
১. অজু করা:  ঘুমানোর আগে অজু করা ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। এতে দুইটি নেয়ামত অর্জিত। 
 
হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘তোমরা তোমাদের শরীরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কর, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমাদেরকে পরিচ্ছন্ন করে দেবেন। আর যখন আল্লাহর কোনো বান্দা ওজু করে বিছানায় ঘুমাতে যায়, আল্লাহ ওই ব্যক্তির সঙ্গে (তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনায়) একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন। ঘুমের মধ্যে ওই বান্দা যখনই নড়াচড়া করে কিংবা এপাশ-ওপাশ করে তখনই ওই ফেরেশতা তার জন্য এ বলে দোয়া করে- ‘اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِعَبْدِكَ (আল্লাহুম্মাগফির লি-আবদিকা) হে আল্লাহ! আপনার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিন।‘ কেননা সে পবিত্রতা অর্জন করে ঘুমিয়েছে।’ (তাবারানি, ইবনে হিব্বান)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো বান্দা যখন ওজু করে পবিত্র হয়ে ঘুমায় আর ঘুমানোর পর যদি কোনো কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যায় তবে সে যেন (একটু হলেও) আল্লাহর জিকির করে। যদি কেউ জিকির করার পর আল্লাহ কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করে তবে আল্লাহ তাআলা তাকে (চাহিদা অনুযায়ী) তা-ই দিয়ে দেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

২. আয়াতুল কুরসি এবং সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করা: ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত তার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।’    

সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত: রাতের বেলায় ভয় ও অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে বাঁচতেও সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের আমল কার্যকরী। যা মানুষকে দুনিয়ার যাবতীয় অনষ্টিতা থেকে মুক্তি দেয়।  

হজরত আবু মাসউদ বদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতের বেলায় সুরা বাকারার শেষ আয়াত দুটি তেলাওয়াত করবে, তার জন্য এ দুটিই যথেষ্ট।’ (বুখারি)

অর্থাৎ সুরা বাকারা শেষ আয়াত দুটির তেলাওয়াত সে রাতের অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে।  

৩. সুরা মুলক তেলাওয়াত করা এবং ইসতেগফার পড়া: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত সুরা মুলক তেলাওয়াতের আমল করবে সে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাবে।’ (তিরমিজি, মুসতাদরাকে হাকেম)

সুরা মুলক রাতের বেলা পড়া উত্তম, তবে অন্য যেকোনো সময়ও পড়া যাবে।  

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুরা মুলক তেলাওয়াত না করে রাতে ঘুমাতে যেতেন না।’ (তিরমিজি)

হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলিফ লাম মীম তানযিল ও তাবারাকাল্লাজি (সুরা মুলক) না পড়ে কখনো ঘুমাতে যেতেন না।’

৪. সুরা নাস, ফালাক্ব ও ইখলাস ৩ বার পড়া: নিরাপত্তার জন্য এ তিন সুরার আমল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক্ব এবং সুরা নাস ৩বার পড়বে; এগুলোই তার সবকিছুর (নিরাপত্তার) জন্য যথেষ্ট হবে।’  

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রাতে যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন নিজের উভয় হাত এক সঙ্গে মিলাতেন। তারপর সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস পড়তেন এবং উভয় হাতে ফুঁক দিতেন। তারপর দেহের যতটুকু অংশ সম্ভব হাত বুলিয়ে নিতেন। তিনি মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। তিনি এরূপ তিনবার করতেন।’ (বুখারি)

৫. সুরা ফাতিহা ও সুরা কাফিরূন পড়া: সুরা কাফেরূন রাতের বিশেষ আমল হিসেবে পরিচিত। এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আরজ করলেন, আমাকে ঘুমের আগে পড়ার জন্য কোনো দোয়া বলে দিন। তখন তিনি ‘সুরা কাফিরূন’ পড়তে আদেশ দেন এবং বললেন এটা শিরক থেকে মুক্তিপত্র।’ (আবু দাউদ; তাবারানি, তাফসিরে ইবনে কাসির)

৬. তিন তাসবিহ পড়া: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর ৩ তাসবিহ- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার করে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।  

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রত্যেক নামাজের পর তাসবিহ পড়ার আদেশ করেছেন। আল্লাহ তাআলার বাণী, ‘ফাসাব্বিহহু আদবারাস সুজুদ’ দ্বারা তিনি এ অর্থ করেছেন। এর মানে ‘এবং সেজদাসমূহের সমাপ্তির পর’ অর্থাৎ নামাজ শেষে তাসবিহ পড়।’ (বুখারি)

৭. ঘুমানোর সময় দোয়া পড়া এবং ডান কাতে শোয়া: 

اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ اَمُوْتُ وَ اَحْيَا

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার নামে মৃত্যুবরণ করি এবং জেগে ওঠি।’

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, রাতে ঘুমানোর আগে উল্লেখিত ৭ আমল নিয়মিত করার মাধ্যমে হাদিসের অনুসরণ ও অনুকরণ করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রাতের ৭টি আমল নিয়মিত করার মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ পাওয়ার তাওফিক দান করুন। যাবতীয় অনিষ্টতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Place your advertisement here
Place your advertisement here