ব্রেকিং:
পাঁচ বিভাগে পাঁচ বার্ন ইউনিট স্থাপনসহ প্রায় ৭ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
  • বুধবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৮

  • || ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

Find us in facebook
সর্বশেষ:
ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধন এখন আরো শক্তিশালী: প্রধানমন্ত্রী বাল্যবিয়ে মুক্ত হলো কুড়িগ্রামের রাজারহাট এক কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধার ধান-চালের বাজার তদারকি জোরদারের নির্দেশ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইউনিট পাচ্ছে ৫ মেডিকেল হাসপাতাল

মানবিক পাঠশালা বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০২১  

Find us in facebook

Find us in facebook

ড. বিমান চন্দ্র বড়ুয়া  

আজ ১১ নভেম্বর ২০২১। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বপ্রথম যুবসংগঠন যুবলীগ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ যুবসংগঠন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ গড়ার জন্য যুবকদের একত্র করে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনিকে যুবলীগ গঠন করার নির্দেশনা দেন। তাঁরই নির্দেশে তিনি এ দেশের সর্বস্তরের যুব সম্প্রদায়কে একত্র করে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তোলাই যুবলীগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বিশ্বনেতা, গণমানুষের পরম বন্ধু এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নির্মাতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কনভেনশনের মাধ্যমে যুবলীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, শোষণমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে যুবলীগের আত্মপ্রকাশ।

শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ভক্ত ও অনুসারী। বঙ্গবন্ধুর বোনের ছেলে হলেও তিনি কর্মদক্ষতা, মেধা, মনন, চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা ও সংগঠনমনস্কতায় ছাত্র-যুবসমাজের নিকট সমাদৃত ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, একজন তুখোড় বক্তা ও রাজনীতিবিদ ছাড়াও পেশায় ছিলেন একজন নিবেদিত সাংবাদিক। শেখ ফজলুল হক মনির আদর্শ, দেশপ্রেম ও সংগ্রামের অনুপ্রেরণা ছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবও তাঁকে খুব আদর ও স্নেহ করতেন। ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থের মাধ্যমে জানা যায়, ১৯৬৭ সালের ১৫ মার্চ জেলগেটে তাঁর সঙ্গে তিনি দেখা করতে আসেন।

শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন আধুনিক চিন্তক ও সমাজমনস্ক। সমকালীন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবলীগকে শক্তিশালী এবং আধুনিকীকরণ করে সংগঠনকে বেগবান ও গতিশীল করাই ছিল তাঁর স্বপ্ন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশে সম্মেলনের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংগঠনের বার্ষিক সম্মেলনকে কংগ্রেস প্রবর্তন করেন। একই সঙ্গে দলের সভাপতি পদের পরিবর্তে চেয়ারম্যান এবং সহসভাপতির পরিবর্তে প্রেসিডিয়ামের সদস্য পদ প্রবর্তন করেন। এ ধরনের পদবি স্বাধীন বাংলাদেশে এটাই ছিল প্রথম। লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের পথচলা। আর এক বছর হলেই প্রাচীনতম সংগঠনটির ৫০ বছর পূর্ণ হবে। বর্তমানে দাঁড়িয়ে গভীর দূরদৃষ্টি দিয়ে ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে যুবলীগ অদ্যাবধি বেকারত্ব দূর করা, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা বিস্তার, গণতন্ত্র, মূল্যবোধ, আত্মনির্ভরশীলতা, সম্প্রীতি-সদ্ভাব রক্ষার পাশাপাশি যুব সম্প্রদায়ের যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। কালপরিক্রমায় প্রখর ও তীক্ষ বুদ্ধিসম্পন্ন যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশের হাতে যুবলীগের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর সপ্তম কংগ্রেসে আওয়ামী যুবলীগের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং পিতার আদর্শ সামনে রেখে সাধারণ মানুষের দুঃখকে নিজের দুঃখ মনে করে স্বার্থরক্ষায় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ দিবা-রাত্রি পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি প্রাচীন সংগঠনটিতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার যুব সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মাত্রা যোগ করেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত ও নন্দিত হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি মানবিক কাজে নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে শহর-নগর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক যুবলীগ।

বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রবল ঢেউ বাংলাদেশেও আসে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষার্থে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ দেশে অঘোষিত লকডাউন শুরু হলে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ হতদরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। তাঁর এই মানবিক কর্মসূচি সফল সার্থক করে তোলার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এ সময় যুবলীগের প্রত্যেক নেতাকর্মী মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে সারা দেশের অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অতিমারি করোনাকালে যুবলীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকেই আবার মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে জীবন ফিরে পেয়েছেন। এভাবেই যুবলীগের নেতাকর্মীরা জীবনকে তুচ্ছ মনে করে বঙ্গবন্ধুর মানবিকতার দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেকে উৎসর্গ করেন। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে যুবলীগ আজ মানবিক যুবলীগ নামে পরিচিত। যুবলীগের অন্যতম মানবিক প্রকল্প হলো আশ্রয়হীনের গৃহের ব্যবস্থা করে দেওয়া। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম কর্মসূচি হলো ‘আশ্রয়ণ কর্মসূচি’। আশ্রয়ণ কর্মসূচির আওতায় গৃহনির্মাণ করে দেওয়া প্রসঙ্গে যুবলীগের চেয়ারম্যান যাদের জায়গা আছে কিন্তু গৃহনির্মাণের সক্ষমতা নেই তাদের গৃহনির্মাণ করে দেওয়া হয় বলে জানান। সংগঠন হিসেবে এই প্রথম যুবলীগ একমাত্র সংগঠন যে নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে গৃহনির্মাণ করে হস্তান্তর করেছে। যুবলীগের আশ্রয়ণ কর্মসূচির মূলে ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরন্তর উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর গৃহীত আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে লাখ লাখ অসহায়, ভূমিহীন, গৃহহীন ছিন্নমূল মানুষকে গৃহনির্মাণ করে মাথা গোঁজার জায়গা করে দিয়েছেন।

পিতার মতো শেখ ফজলে শামস পরশও স্বচ্ছ, নির্ভীক ও অসীম সাহসের অধিকারী হয়ে অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে কোনো রকম সংশয় কিংবা দ্বিধাদ্বন্দ্ব পোষণ করেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

শেখ ফজলে শামস পরশ যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেই শুরু করেন মানবিক প্রকল্প, যা এরই মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ধারণ করে যুবলীগকে গণমানুষের যুবসংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। বর্তমান যুবলীগের গৃহীত বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি তাঁরই রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির ফসল। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতিশীল যুবকদের একত্র করে যুব জাগরণ সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটি আজ বাংলার ঘরে ঘরে আস্থা ও ভরসার ঠিকানা। সংগঠন হিসেবে যুবলীগ যুব সম্প্রদায়কে মানবিক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। সংগঠনটি আজ মেধাবী ও প্রগতিকামী যুবকদের মানবিক পাঠশালার নাম। যুবলীগ সফল রাষ্ট্রনায়ক ও সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এবং ভ্যানগার্ড হিসেবে দেশ গড়ার কাজে অবিচল থাকবে। শুভ জন্মদিন যুবলীগ। জয়তু যুবলীগ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কার্যনিবাহী সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ
 

Place your advertisement here
Place your advertisement here