• মঙ্গলবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

  • || ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

Find us in facebook

পঞ্চগড়ে পোকার আক্রমণে আমনের সর্বনাশ

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০২২  

Find us in facebook

Find us in facebook

পঞ্চগড়ে চলতি আমন মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হলেও কিছু এলাকায় কারেন পোকার (বাদামি ঘাস ফড়িং) আক্রমণে ক্ষতি হয়েছে অনেক কৃষকের। কীটনাশক দিয়েও শেষ রক্ষার হয়নি এসব জমির আমন আবাদের।

পোকা আক্রান্ত আমনের ২০ শতাংশ জমিতেও ফলন পাবেন না কৃষকরা। শুধু তাই নয়, আক্রান্ত ধান ক্ষেতের খড়ও কোনো কাজে আসে না। পাশের জমিতে বাম্পার ফলন হলেও পোকা আক্রান্ত জমির কৃষকদের গুনতে হবে লোকসান।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) পঞ্চগড় উপজেলা সদরের হাফিজাবাদ, হাড়িভাসাসহ সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার বিভিন্ন জমিতে ধান গাছ আছে, কিন্তু ফলন নেই। বিশেষ করে সদর ইউনিয়নের ভূসিভিটা ও অমরখানা গ্রামের বেশকিছু আমন আবাদের জমি নষ্ট হয়ে গেছে। কারেন পোকার আক্রমণে ওই এলাকার আমন ক্ষেতের কৃষকরা সর্বশান্ত হয়েছেন। আশপাশের এলাকাতেও কারেন পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবারের আমন আবাদ। এসব জমিতে ধানগাছ ঠিক থাকলেও কোনো ফলন হয়নি।

ভূসিভিটা এলাকার কৃষক ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি বিঘা (৩৩ শতাংশ) প্রতি ১০ মন (৪০০ কেজি) ধান দেওয়ার শর্তে অন্যের কাছ থেকে দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়েছিলাম। কিন্তু জমিতে কীটনাশক দিয়েও কাজ হয়নি। কারেন পোকার আক্রমণে জমিতে কোনো ফলন পাইনি। এই জমির খড় গরুও খায় না। তাই এ খড় কেউ কিনেন না। আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা জানান, ধান গাছে ফলন আসার পরই বাদামি ঘাস ফড়িং জাতীয় এক প্রকার পোকা ধান ক্ষেতে আক্রমণ শুরু করে। এই কীট স্থানীয়ভাবে কারেন পোকা নামে পরিচিত। কারেন পোকা আক্রান্ত আমন ক্ষেতে ধান গাছের গোড়ার রস শুষে নেয়। ফলে পানি ও রসের অভাবে জমিতে গাছ হলেও ধান হয় না। আক্রান্ত ক্ষেতের খড় গরুও খায় না। তবে বর্তমানে ভালো জমিতে আমন ধান কাটার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার আমন আবাদের প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে।

পঞ্চগড়ে এবার এক লাখ ১০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। আবাদ হয়েছে এক লাখ ৩০ হেক্টর জমিতে। হাইব্রিট, উফশী এবং স্থানীয়, এই তিন জাতের ধানে চাল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ আট হাজার ২১৩ টন। কৃষি বিভাগের দাবি, এবার ফলন গত ৪/৫ বছরের তুলনায় ভাল হয়েছে। অল্প কিছু জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও লক্ষমাত্রা অর্জনে কোনো প্রভাব পড়বে না।

উপজেলা সদরের হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আল আমিন বলেন, আমার ১৩ বিঘা জমিতে তিনবার কীটনাশক স্প্রে করেছি। এজন্য কোনো পোকামাকড় ধরতে পারেনি। ফলন অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় ভাল হয়েছে। আশা করি বিঘাপ্রতি ২০ মনের (৮০০ কেজি) উপরে ধান পাবো। বর্তমান ধানের দামও আমাদের অনুকূলে।

উপজেলা সদরের অমরখানা গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছিলাম। এরমধ্যে এক বিঘা জমির ধান কারেন পোকার আক্রমণে শেষ হয়ে গেছে। বাকি তিন বিঘার জমিতে ভাল ফলন হওয়ায় সেই ধান দিয়ে হয়তো এক বিঘার ক্ষতিপূরন হবে। তবে এবার আমার কোনো লাভ হলো না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, পঞ্চগড়ে এবার আমনের আবাদ বিগত ৪/৫ বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটামাড়াই চলছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। জেলাজুড়ে নবান্ন উৎসবের আমেজ চলছে। ভাল দাম পেয়ে কৃষকরাও খুশি। তবে অল্প কিছু জমিতে বাদামি ঘাস ফড়িং আক্রমণ করেছে। এই অল্প পরিমাণে জমির কারণে চলতি আমন আবাদের লক্ষমাত্রা অর্জনে কোনো প্রভাব পড়বে না। এছাড়া পঞ্চগড়ে আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার পোকার আক্রমণ তেমন একটা পরিলক্ষিত হয়নি। এখনকার কৃষকরা অনেক সচেতন, আমরাও কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ দিয়েছি। ফলে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছে। ভালো দাম পেয়ে খুশি এখানকার কৃষকরা।

Place your advertisement here
Place your advertisement here