• শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৯

  • || ১৩ মুহররম ১৪৪৪

Find us in facebook
সর্বশেষ:
ছুটির দিনে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় শোক দিবসে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: আইজিপি বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গম রফতানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিল্প-কারখানায় এলাকাভেদে সাপ্তাহিক ছুটি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি: খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

বন্যায় অর্থনৈতিক ক্ষতি বেশি হলেও, মৃত্যু কম হয়েছে

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২২  

Find us in facebook

Find us in facebook

বন্যায় অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেক বেশি হলেও তুলনামূলক জীবনহানি কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।

সোমবার (৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে সিলেট বিভাগ সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত 'সিলেট অঞ্চলে ঘন-ঘন বন্যার কারণ: স্থায়ী সমাধানে করণীয়' গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান বলেন, বন্যায় জীবনহানি তুলনামূলক কম হয়েছে, যে পরিমাণ স্থাপনা এবং অবকাঠামো ধংস হয়েছে। মানুষের মৃত্যু কম হয়েছে এটা ভালো বিষয়, তবে অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। গত ৩০ বছরে সুনামগঞ্জের যে উন্নয়ন কাজ হয়েছে, তা সব শেষ হয়ে গেছে। কোনো সড়ক অক্ষত নেই, এমনকি সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক কয়েক জায়গায় ধংস হয়ে গেছে। গ্রামের ছোট ছোট সড়কগুলো প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা হয়তো স্কুল, কলেজ, হাট-বাজার পুননির্মাণ করতে পারবো, কিন্তু সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত কঠিন কাজ সব দিক থেকে। আমি শঙ্কিত এটা নিয়ে যে, হাওর এলাকায় আমরা যে পরিমাণ উন্নয়ন করেছিলাম, তা আর কবে ফিরে পাবো। আমার জীবদ্দশায় ফিরে পাবো কিনা, সন্দেহ আছে।  

হাওরের মানুষের জীবন যাত্রার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান বলেন, শহরের মানুষের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই, হাওরের মানুষের অবধারিত ভাগ্য এটা নয় যে, তারা সারাজীবন পানির নিচে বসবাস করবে। তারা মাছ ধরবে, খাবে, পুঁথি পড়বে আর ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সে মারা যাবে, এটাই তো তাদের ভাগ্য নয়। দেশের মানুষের যে পরিবর্তন এবং উন্নয়ন হচ্ছে, যে উন্নয়নের তারাও হকদার। গ্রামের এবং হাওরের মানুষদেরও উন্নত জীবন দেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, গত ৩০-৩৫ বছরে হাওরাঞ্চলে যে পরিমাণ অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেড়েছে, এই একটা-দুইটা বন্যায় তার ক্ষতি ১০০ শতাংশের এক ভাগও হবে না। এমন বিরল (বন্যা) ঘটনা মাঝে মধ্যে হয়। ভবিষ্যতেও হবে, কিন্তু আমাদের এটা মোকাবিলা করতে হবে।  

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রথমে ত্রাণ, তারপর নির্মাণ, আমরা সেই বিষয় বিবেচনা করেই কাজ করছি।  

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম প্রমুখ।  

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন পদ্মা সেতুর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম ফিরোজ আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল ও প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি প্রমুখ।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, এবারে এত বড় বন্যা হবে, এটা আমাদের কারও ধারণা ছিল না, তাই আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। আগামী বছরে আবারও এমন বন্যা হতে পারে, তাই আমাদের আগে থেকেই পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসন করা হবে। বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের গাছপালা কমে গেছে এটা আমি স্বীকার করি। বন্যা থেকে রক্ষা পেতে নদ-নদী, জলাশয় এবং হাওরগুলো আমাদের খনন করতে হবে।  

Place your advertisement here
Place your advertisement here