ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুসরণ করে করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ২৫০টি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করেছে
  • সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১০ ১৪২৮

  • || ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

Find us in facebook
সর্বশেষ:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদন শুরু ২৮ জুলাই ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প আসছে বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে, বিধিমালা কার্যকরে উদ্যোগ দেশের মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তায় হচ্ছে পুষ্টি বাগান পশুর নাড়ি-ভুঁড়ি রফতানি করে বছরে আয় ৩২০ কোটি টাকা

‘দোয়া করি আল্লাহ যেন হাসিনাকে রহমত দান করেন’

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২১  

Find us in facebook

Find us in facebook

ঐতিহাসিক সোনারগাঁ উপজেলার খামারগাঁও গ্রামের বায়ান্ন বছর বয়সের মরিয়ম বিবি। জীবনে বহু ঘাতপ্রতিঘাত সহ্য করে খড়কুটার মতো ভাসতে ভাসতে অবশেষে নিজগ্রামে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি বাড়ি পেয়েছেন। অসহায় মরিয়ম সে বাড়িতে পিঠা তৈরি করে তা বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন।

মরিয়ম বিবির গল্পটা আর দশটা মেয়ের চেয়ে আলাদা। বাপ-দাদার বাড়ি না থাকায় শতবর্ষ ধরেই গৃহহীন এ পরিবারটি। মরিয়মের পিতা আ. করিম অন্যের জমিতে ছাপড়া ঘর তুলে থাকতেন। সেখান থেকে জমিওলা তাড়িয়ে দিলে থাকতেন ভাড়াবাসায়। এভাবেই সে যাযাবরের মতো জীবনযাপন করেছেন। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মরিয়ম সবার বড়। বাবা গরিব বিধায় সংসার চালানো ছিল কঠিন। ১৯৮০ সালের মার্চে মাত্র এগারো বছর বয়সে ২ শ টাকা বেতনে চাকরি নেন ঢাকার তেজগাঁওয়ে অপরূপা গার্মেন্টে। মরিয়ম সেখানে কাজ করেন প্রায় ৫ বছর। এরপর ১৯৮৬ সালে ১৩০০ টাকা বেতনে মহাখালীর ইউনিয়ন গার্মেন্টে চাকরি শুরু করেন। সেখানে চাকরিরত অবস্থায় ১৯৯১ সালে তার বিয়ে হয় একই গ্রামের জয়নাল মিয়ার সাথে।

জয়নাল মিয়ার কোনো বাড়িঘর ছিল না। আবারো বাবার বাড়ির মতো স্বামীর বাড়িতেও ভাসমান জীবন। বিয়ের পর ১৯৯২ সালে স্বামী জয়নাল মরিয়মকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজ এলাকা খামারগাঁওয়ে নিয়ে আসেন। বিয়ের দেড় বছর পর তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান হয়। এর ছয়মাস পর বিয়ের মাত্র ২ বছরের মাথায় স্বামী জয়নাল মারা গেলে অসহায় মরিয়ম পরের বাড়িতে ঝি-চাকরের কাজ করতেন। মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে জমি ও ঘর দিচ্ছেন জানার পরই এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে একটি আবেদন করেন। আবেদন মঞ্জুর হলে তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর পেয়েছেন। সে ঘরেই তিনি পিঠা বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করছেন।

সরেজমিন কথা হলে মরিয়ম জানান, আমার জন্মদাতা বাবাও আমাদের মাথা গোজার জন্য এক টুকরা জমি রেখে যেতে পারেননি। বাবা মানুষের বাড়িতে ও জমিতে কামলা দিয়ে আমাদের বড় করেছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা আমার মতো লাখ লাখ গরিবের জন্য যা করেছে তার জন্য আমি নামাজ পড়ে দোয়া করি আল্লাহ যেন হাসিনাকে রহমত দান করেন।

তিনি জানান, এলাকার মানুষ ও নদীতে মাছ ধরতে আসা জেলেরা সকাল বিকাল আমার কাছ থেকে পিঠা কিনে খান। এতে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চালান। মরিয়মের মা সত্তুরোর্ধ রোকেয়া বেগম জানান, তার সন্তানের কোনো বাড়ি হবে বেঁচে থাকা অবস্থায় তিনি তা চিন্তাও করতে পারেননি। শেখ হাসিনা কল্যাণে আমার মেয়ে বাড়িঘর পেয়েছে সে বাড়িতে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি।

মরিয়ম বিবি অশ্রুসিক্ত নয়নে আরো জানান, জীবনে প্রথম নিজের বাড়িঘরে ঈদ করতে পারব এ আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না। ডিসি, ইউএনও তার খোঁজ খবর নেন। কোনো সমস্যা হলে যেন তাদেরকে জানাই বার বার বলে গেছেন। আমি পিঠা বিক্রি শুনে ডিসি স্যার খুব খুশি হয়ে গরিবের ঘরে ডিসি, ইউএনও, এসিল্যান্ড স্যার খেয়ে গেছেন এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে।

সোনারগাঁ উপজেলা সূত্রে জানা যায়, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গিকার-গৃহ হবে সবার’ প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নে ও একটি পৌরসভায় ভূমিহীন ও গৃহহীদের পুনর্বাসনের জন্য 'ক' শ্রেণির ১৩০টি পরিবারকে দুই শতক জমির মালিকানাসহ ৩৯৪ বর্গফুট আয়তনের দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি করে সেমিপাকা ঘর উপহার দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘরে ৩ ফুট প্রস্থ ৬ ফুট উচ্চতা একটি দরজা, ৪টি জানালা, একটি রান্না ঘর ও একটি বাথরুম রয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, মরিয়ম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে পিঠা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে তা সত্যিই খুশির সংবাদ। মরিয়মদের পাশে থেকে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। প্রথম ধাপে ১০০ এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭০টি দৃষ্টিনন্দন ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৩০টি ঘরের কাজ শেষ পর্যায়ে বাকি ৪০ ঘরের কাজ প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া উপজেলা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরো ১০ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না তাদেরকে এসব ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে এ জনগোষ্ঠির সামাজিক মর্যাদাসহ জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুস্তাইন বিল্লাহ বলেন, মরিয়ম বেগম প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পে নির্মিত ঘরে বসেই পিঠা বিক্রি করে তার জীবিকা নির্বাহ করেন। সুখে ও শান্তিতে বসবাস করা এই মরিয়ম হতে পারেন অন্যদের জন্যও অনুকরণীয়।

তিনি বলেন, ঘরগুলো তৈরিতে উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, এসিল্যান্ড, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিগণ দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে বিগত দিনের মতোই আন্তরিকভাবে ও আরো বেশি দক্ষতার সাথে কাজ করবেন আমাদের কর্মকর্তারা এই প্রত্যাশা করি।

Place your advertisement here
Place your advertisement here