ব্রেকিং:
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টিকা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
  • শনিবার   ০৬ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২১ ১৪২৭

  • || ২২ রজব ১৪৪২

Find us in facebook
সর্বশেষ:
আরো ৪ কোটি ডোজ টিকা কেনার চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ পঞ্চম ধাপে ভাসানচরে পৌঁছেছেন আরো ১ হাজার ৭৫৯ রোহিঙ্গা সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প: গাইবান্ধায় ঠিকানা পেল ৫০ সাঁওতাল পরিবার মার্কিন গণমাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নতির ভূয়সী প্রশংসা আত্মরক্ষায় মার্শাল আর্ট শিখছে তেঁতুলিয়ার কিশোরীরা

২১ ফেব্রুয়ারি ‘ভাষা আন্দোলন‘ এর পটভূমি 

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

Find us in facebook

Find us in facebook

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়/ ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে/ কইত যাহা আমার দাদায় কইছে তাহা আমার বাবায়/ এখন কও দেখি ভাই মোর মুখে কি অন্য কথা শোভা পায়। আব্দুল লতিফের লেখা সেই গানের কথা ছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পটভূমি। তবে ওদের কার্য হাসিল করতে দেয় নি বাংলার ছেলেরা। জীবনের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছে মুখের ভাষা।  

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। যে অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে। এই আন্দোলনে ছাত্রদের পাশাপাশি রাজপথে নেমে এসেছিল কৃষক, চাকরিজীবী, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। বুক পেতে দিয়েছিল শত্রুর বুলেটের সামনে। পরোয়া করেনি নিজের জীবনের। শহীদ হয়েছিলেন সালাম, বরকত সহ অফিস যাত্রী শফিউর রহমান সহ নাম না জানা অনেকে। শত্রুর ভয়ে যার লাশ দাফন হয়েছিল দুই দিন পর খুব গোপনে।  

১৯৪৭ সাল থেকেই চলে আসছে বাংলাকে নিজেদের করে নেয়ার কার্যক্রম। বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে ‘তমুদ্দুন মজলিস‘ গঠনের মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। তমুদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন তরুণ অধ্যাপক আবুল কাশেম। মৌলিক অধিকার রক্ষাকল্পে বাংলা ভাষাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণদাবীর বহিঃপ্রকাশ ঘটে। 

১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি সদস্যদের বাংলায় বক্তৃতা প্রদান এবং সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ইংরেজিতে প্রদত্ব বক্তৃতায় বাংলাকে অধিকাংশ জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে উল্লেখ করে ধীরেন্দ্রনাথ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবি তোলেন। এছাড়াও সরকারি কাগজে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান তিনি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলেও বস্তুত এর বীজ বপিত হয়েছিল বহু আগে, অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়া এবং ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তানের উদ্ভব হয়। কিন্তু পাকিস্তানের দু’টি অংশ- পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও ভাষাগত দিক থেকে অনেক মৌলিক পার্থক্য বিরাজ করছিল। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানকারী বাংলাভাষী সাধারণ জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভের জন্ম হয় ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। পূর্ব পাকিস্তান অংশের বাংলাভাষী মানুষ আকস্মিক ও অন্যায্য এ সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি এবং মানসিকভাবে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। ফলস্বরূপ বাংলাভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন দ্রুত দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে সমাবেশ-মিছিল ইত্যাদি বেআইনী ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৮) এ আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সংখ্যক ছাত্র ও প্রগতিশীল কিছু রাজনৈতিক কর্মী মিলে মিছিল শুরু করেন। মিছিলে যোগ দেন সাধারণ মানুষও। পথশিশু থেকে শুরু করে কর্মজীবী, রিকশাচালকও স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে নিহত হন রফিক, সালাম, বরকত-সহ আরও অনেকে।

Place your advertisement here
Place your advertisement here