ব্রেকিং:
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরো দুই হাজার ৫২৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। যা একদিনের আক্রান্তের পরিসংখ্যানে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৪২ হাজার ৮৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
  • শনিবার   ৩০ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭

  • || ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

Find us in facebook
সর্বশেষ:
রোববার থেকে গণপরিবহন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে মালিক-শ্রমিকরা লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ টেকনিশিয়ানসহ আরো ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেবে সরকার ঢাবি ছাত্রলীগ নেতার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরে দোয়া মাহফিল মানবিকতার উজ্জল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন লালমনিরহাটের এসপি আবিদা
৩৭

স্বপ্নের শেষ সিঁড়িতে পদ্মাসেতু

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২০  

Find us in facebook

Find us in facebook

এক সময়ের স্বপ্ন ছিল পদ্মাসেতু। কিন্তু স্বপ্নের সেই সেতুতে যানবাহন উঠতে আর বেশি দিন বাকি নেই। এরইমধ্যে ৪২টি খুঁটির সবগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ১৪টি স্প্যান বসানো বাকি রয়েছে। যা আগস্টে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর থেকেই শুরু হবে সেতু ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষা।

মঙ্গলবার দুপুরে পদ্মাসেতুর ৪২ নম্বর খুঁটির ওপরের অংশের ঢালাই শুরু হয়। সন্ধ্যার মধ্যেই এ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সেতু প্রকৌশলীরা। তারা জানান, আগামী তিনদিনের মধ্যে খুঁটি শক্ত আকার ধারণ করবে। আর পুরোপুরি লোড নিতে সময় লাগবে প্রায় এক মাস।

সেতুটি চালু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এতে মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) এক থেকে দেড় শতাংশ বাড়বে। দারিদ্র্যের হার কমবে দশমিক ৮৪ শতাংশ। পদ্মার ওপারে গড়ে উঠবে শিল্পকারখানা।

চার বছর আগে পদ্মাসেতুর কাজ শুরু হয়। সবশেষ খুঁটির কাজের মধ্য দিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করল প্রকল্পটি। মাঝে খুঁটি জটিলতার কারণে এক বছরের বেশি সময় কাজ পিছিয়েছে।

চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি জানায়, মূল সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে মাওয়া এসেছে ৩৯টি। ২৭টি স্থাপন করা হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য চার হাজার ৫০ মিটার। বাকি দুইটি স্প্যান চীনে নির্মাণ সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। এখন সে দুইটির ব্লাস্টিং ও পেইন্টিং কাজ চলছে। ২০ এপ্রিলের মধ্যে চীন থেকে এটি বাংলাদেশে রওনা দেবে। এরপরই এক সঙ্গে দৃশ্যমান হবে পুরো সেতু।

৪২টি খুঁটিতেই দাঁড়াবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার লম্বা পদ্মাসেতু। এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম।

পদ্মাসেতুর প্রকৌশলীরা জানান, মাঝ নদী ও মাওয়া প্রান্তে সেতুর ২২টি খুঁটিতে সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। প্রথমে যে গভীরতার ধারণা নিয়ে কাজ এগোনো হচ্ছিল বাস্তবে তার সঙ্গে মেলেনি। এ নিয়েই বিপত্তি হয়েছিল সেতু নির্মাণে। এসব কারণে ২২টি খুঁটির কাজ আটকে যায়।

তারা আরো জানান, সবশেষে এমন একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় যাতে নদীর তলদেশে কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় মাটি বদলে নতুন মাটি তৈরি করে খুঁটি গাঁথা যায়। এই বিশেষ ‘স্ক্রিন গ্রাউটিং’ পদ্ধতিতে সফলতা পাওয়া গেছে।

পদ্মাসেতুর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, পাইপের ছিদ্র দিয়ে বিশেষ কেমিকেল নদীর তলদেশে পাঠিয়ে মাটির গুণাগুণ শক্ত করে তারপর সেখানে খুঁটি গাঁথা হয়েছে।

তিনি বলেন, কাজ শুরু করতে গিয়ে নদীর নিচে মাটির যে স্তর পাওয়া গেছে তা খুঁটি গেঁথে রাখার উপযোগী নয়। পরে নদীর তলদেশের মাটির গুণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে ড্রাইভিং করতে হয়েছে। এমন পদ্ধতিতে কোনো সেতুর খুঁটি নির্মাণ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হয়েছে। যা বিশ্বে নজিরবিহীন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১১টি খুঁটি গড়ে তোলা হয়েছে। সবশেষ ৪২ নম্বর খুঁটিও এভাবে ঢালাইয়ের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে।

নদীতে ৬.১৫ কিলোমিটারসহ মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর জেলা মিলিয়ে সাড়ে নয় কিলোমিটার লম্বা পদ্মাসেতু। দেশের সবচেয়ে বড় এই নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুনে পদ্মাসেতু খুলে দেয়া হবে। এখন পর্যন্ত সেতুর চার কিলোমিটার দৃশ্যমান।

Place your advertisement here
Place your advertisement here
উন্নয়ন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর