বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

Find us in facebook
১৪৩

রংপুরে বহুতল ভবনের উপর চলছে ফুল, ফল, সবজিসহ ঔষধি গাছের চাষ

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৯  

রংপুর সিটি কপোরেশনের (আরপিএমপি থানার) আওতাধীন রবাটশন গঞ্জ গ্রাম, আলম নগর, রংপুর, এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ নুরনাহার বেগম জেমি, স্বামী. মোঃ আব্দুর রহমান রুবেল। তারা বসবাস করে সাড়ে ৭শতক (৩২০০ স্কয়ার ফিট) জমির উপর ৬তলা ভবনে। নুরনাহারের গাছের প্রতি ভালোবাসা, ফরমালিন মুক্ত খাবারের আশায় নিজ চাহিদা পূরনের জন্য ও শখের বশতঃ গড়ে তুলেছে বিভিন্ন প্রকার ফুল, ফল, সবজি, মশলা ও ঔষধি গাছের বাগান। যার সবগুলোই টবের মধ্যে চাষাবাদ করা হচ্ছে। মনোরম পরিবেশে দেখার মত একটি স্হান গড়ে উঠেছে যা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে। গাছ গুলোর মধ্যে রয়েছে, ফলের মধ্যে আমলকি, আম, কদবেল, কাফ লিচু, জাম, কাঠাঁল, আতা, সপেদা, শরিফা, পিচ ফল, তেতুল, আমরা, গাবফল, জামবুরা, কয়েক প্রকারের লেবু, বেল, চালতা, লটকোন, আঙ্গুর, পেয়ারা, পেপেঁ, আপেল, কামরাঙ্গা, জলপাই, আখ, আমলকি, ড্রাগন ও অল স্কয়ার সহ হরেক রকম ফল সামগ্রী। ফুলের মধ্যে গোলাপ, পাতা বাহার, পাথর কুঁচি, বাওফুল, করমচা। সবজির মধ্যে সিম, টমেটো, বেগুন, পুদিনা পাতা, আলু বোখরা। মশলার মধ্যে এলাচ, লং, মরিচ, গোলমরিচ, ডালচিনি, তেজপাতা। ঔষধি গাছের মধ্যে এলোভেরা, তুলসী। রয়েছে পানপাতা সহ বহু প্রকারের টবের উপর লাগানো গাছ। এ বাপারে সেই বাগানের সত্বাধিকারী নুর নাহার কে জিঙ্গাসা করলে তিনি বলেন, ফরমালিন মুূক্ত খাবারের জন্য গত ২বছর আগে নিজ উদ্দ্যেগে আমার স্বামীর সহযোগীতায় আমি বাগানের কাজে হাত দেই বিভিন্ন স্হান হতে বিভিন্ন প্রকার ফুল, ফল, মশলা, ঔষধির গাছ সংগ্রহ করে তা নিজের শ্রম ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে কাজ করছি, এখন পর্যন্ত পরিশ্রম করেই যাচ্ছি। দুই বছরে প্রায় আমার দুই লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন এই বাগান হতে আমাদের পরিবারের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, পাশাপাশি পারাপরশি আত্বিয়-স্বজন নিয়ে যাচ্ছে তাদের কিছুটা চাহিদা পূরণ হচ্ছে, আমার বন্ধু-বান্ধবরাও ঘুরতে এসে তাদের ইচ্ছেমত ফুল, ফল, সবজি নিয়ে যাচ্ছে। অবশিস্ট কিছু ফুল, ফল, সবজি বিক্রি করছি যা হতে আমার হাত খরচ উঠে আসছে, আয় চলমান রয়েছে। আমি মনে করি আমার মত সকল পরিবারের মহিলারা এ কাজ করতে পারে, বাড়ির কাজ শেষ করে তারা বাগান তৈরির কাজে শ্রম দিতে পারে। এতে পরিবারের ফরমালিন মুক্ত খাবার পরিবেশন করার পাশাপাশি নিজের হাত খরচ চালাতে পারে। তিনি আরো বলেন, আসুন আমরা সকলে ফরমালিন মুক্ত খাবার খাই নিজে বাচি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বাচাঁর সুজোক করে দেই, নিজেদের খাবার নিজেরা তৈরি করি ফরমালিন মুক্ত দেশ গড়ি। 
কৃষি অফিস হতে জানা যায়, শখ করে আমাদের দেশের ছাদ বাগান করার প্রথা শুরু হলেও এখন রীতিমত অর্থনৈতিক খাত হিসেবে পরিচিত। সঠিক ও পরিকল্পিতভাবে ছাদ বাগান গড়ে তোলার মাধ্যমে এ খাতের আরোও গতিশীলতা আনায়ন করা সম্ভব। এ বিষয়ে কারিগরি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে আসছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ। ছাদে রোপন উপযোগী গাছ, কোন অংশে কোন গাছ রোপন উপযোগী, রোপনের টব, টবের মাটি ও সার বিষয়ক, প্রনিং, বালাই দমনসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ সেবা প্রদান করে আসছেন তারা। এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন কৃষি অফিস, রংপুরে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, আশরাফুন্নাহার বলেন, নুরনাহারের সফলতা কামনা করেন তারমত করে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান , বাড়ির ছাদে বাগান করার মাধ্যমে মহিলাদের আত্ব-কর্মসংস্হানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, সারা বছর ধরে নিরাপদ ফল ও সবজির উৎস, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সৃজনশীন মানষিকতার বিকাশে সহায়তা, বাড়তি আয়, টপ ফ্লোরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে ফলে টপ ফ্লোরের ভাড়াও অনান ফ্লোরের মতই হয় ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ছাদ বাগানের অসামান্য অবদান রয়েছে। এছাড়াও এসব বিষয়ে পশিক্ষণ ব্যবস্হা, প্রদর্শনী স্হাপন করাসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো গেলে শহরাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ির ছাদই বাগানের আওতায় আনা সম্ভব হবে। সার্বিকভাবে ছাদ বাগান ইট-কোটরের শহরাঞ্চলের প্রাণ সঞ্চারের পাশাপাশি কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবে। অবশেষে তিনি বলেন নুরনাহার পুরস্কার পাওয়ার মত কাজ করেছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা তার সবাঙ্গিন সফলতা কামনা করছি।"

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –
Place your advertisement here
Place your advertisement here