ব্রেকিং:
অন্যরকম সেঞ্চুরির বৃত্ত পূরণ করলো বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে পঞ্চগড়ে সাতদিনের ভাষা সৈনিক সুলতান বইমেলা শুরু উত্তর কোরিয়ায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তা চীনের চেয়েও ভয়াবহ প্রাণঘাতী হতে পারে যথাযথভাবে পতাকা উত্তোলন না করায় রংপুরে দু’টি ব্যাংককে জরিমানা শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মাসেতুর ২৫তম স্প্যান বসানোয় সেতুর পৌনে চার কিলোমিটার দৃশ্যমান হলো ইংরেজি অ্যাকসেন্টে বাংলা বলা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শনিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১০ ১৪২৬   ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Find us in facebook
সর্বশেষ:
গণমানুষের রাজনীতি করতে ব্যর্থ বিএনপি: হাছান মাহমুদ কোরআনের রেফারেন্স দিয়ে জুয়া বন্ধের পূর্ণাঙ্গ রায় মাদারীপুরের শিবচরে রান্নাঘর থেকে লাগা আগুনে নিঃস্ব ১০টি পরিবার ঘরে বসেই পুরনো পণ্য কেনা-বেচার করতে দেশীয় অনলাইন প্লাটফর্ম ‘সোয়্যাপ’ চালু হয়েছে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরে সর্বত্রই বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে:তাপস অবশেষে বিটিআরসিকে একহাজার কোটি টাকা দিচ্ছে গ্রামীণফোন
৭৮

দিনাজপুরের মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে আমরা শান্তিপ্রিয় কিন্তু প্রতিবাদী

দৈনিক রংপুর

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০১৯  

Find us in facebook

Find us in facebook

ইয়াসমীন ট্রাজেডির ২৪তম দিবসকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক এই আন্দোলনের সুচনাকারী নেতা বর্তমান এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, আন্দোলনটা আমরা শুরু করেছিলাম। কিন্তু এর শেষটা করেছেন প্রবীণ রাজনীতিক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সংবিধান প্রনেতা সাবেক সাংসদ এ্যাডঃ আব্দুর রহিম। তিনি না হলে ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিচার পাওয়া হয়ত সম্ভব হতো না। 

সাক্ষাৎকারে ইয়াসমীন আন্দোলনের প্রথম প্রতিবাদকারী ও আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বর্তমানে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, সে সময়ের গণঅভ্যূত্থান অন্তত্যপক্ষে সমগ্র বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিল মর্যাদা রক্ষার জন্য দিনাজপুর পারে এবং মর্যাদা রক্ষায় দিনাজপুরের মানুষ সর্বচ্চো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। 

স্বাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, ইয়াসমীন আন্দোলন বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিলনা। এ আন্দোলন ছিল সমগ্র দিনাজপুরবাসীর আন্দোলন। যার কারণে তদানিন্তন সরকার বাধ্য হয়েছিল জনতার দাবী মেনে নিতে। যদিও তারা দাবীগুলো বাস্তবায়ন করেনি। ৮ দফা দাবী মেনে নিয়ে তৎকালীন সরকার প্রধানের বিশেষ প্রতিনিধি এসে সমঝোতা করতে বাধ্য হয়। তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ শিক্ষা নিয়েছে বোনের, মায়ের স¤্রম কি ভাবে রক্ষা করতে হয়। আমরা সমগ্র বিশ্বে একটি উদাহরণ।

আন্দোলনের সফলতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সংসদ সদস্য গোপাল বলেন, আমরা সফল। এই আন্দোলন একটি মাইল ফলক। আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি দিনাজপুরের একজন গৃহপরিচারিকার জন্যও কি ভাবে রুখে দাঁড়াতে হয়।

বিচার বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি জানান, আমরা বিচার পেয়েছি। বিচারের রায়ে ৩ জন পুলিশের ফাঁসি হয়েছে। এ বিচার পেতে যিনি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি হলেন- প্রবীণ রাজনীতিক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সংবিধান প্রনেতা সাবেক সাংসদ এ্যাডঃ আব্দুর রহিম। তিনি না হলে হয়ত আমরা ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিচার পেতাম না। যখন দিনাজপুর জেলা দায়রা জজ আদালত থেকে মামলাটি রংপুর দায়রা জজ আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন প্রবীণ রাজনীতিক এম আব্দুর রহিম প্রতি তারিখে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বাস ভাড়া করে দলবলসহ ইয়াসমীনের মা শরীফা বেগমকে রংপুর নিয়ে যেতেন। আমরা যে বিচার পেয়েছি, সেটির জন্য এম আব্দুর রহিমের প্রতি দিনাজপুরবাসী কৃতজ্ঞ।

ইয়াসমীন আন্দোলনের পরবর্তী সময় একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে আন্দোলন সুচনাকারী নেতা হিসেবে আপনার নাম নাই বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটাও একটা ইতিহাস। দিনাজপুরবাসী জানে কারা আন্দোলন করেছিল। ইতিহাস বিকৃতি করে প্রকৃত ইতিহাসকে দাবিয়ে রাখা যায় না। একদিন সত্য প্রকাশ পাবেই। তাছাড়া দিনাজপুরবাসী তো জানেই।

আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সরকারের কি ভূমিকা ছিল? প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোট সরকার কথা দিয়ে কথা রাখেনি। তারা ৮ দফার ভিত্তিতে সমঝোতা করলেও একটি শর্ত তারা পূরণ করেনি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দাবীগুলো পূরণ করেছে এবং দোষীদের বিচার করেছে। তিনি বলেন, আমাদের কিছু অর্জন রয়েছে কিন্তু আমরা এখনো ক্ষতিগ্রস্থ-নিহতদের পরিবারগুলোকে পূণর্বাসন করতে পারেনি। ইয়াসমীন এখন সারা বিশে^ নারী নির্যাতন প্রতিরোধের একটি প্রতীক। তার মানে আমরা বলছি না যে, এখন সে ধরণের ঘটনা ঘটে না।

ধর্ষন-হত্যা ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের করনীয় কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আইন করে দেখলাম। আইন দিয়ে ধর্ষণ-হত্যা ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা সম্ভব না। তাই সামাজিক আন্দোলন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও সামাজিক সচেতনতা। 

ইয়াসমীন আন্দোলনের সার্বিক সফলতা বা আমাদের অর্জন কি? প্রশ্নের উত্তরে মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, অর্জন তো অবশ্যই আছে। এ ঘটনার পর আমাদের মেয়েরা অফিস আদালতে নির্ভিঘ্নে কাজ করতে পারে। শহরে তারা এখন নিরাপদে বিচরণ করে। শুধু তাই নয় ইয়াসমীন এখন নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রতীক হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত একটি নাম। দিনাজপুর জেলাকে এখন মানুষ এক নামে চেনে। 

এই আন্দোলনের আপনার জীবনে কোন ঝুঁকি ছিল কি না শেষ এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিপদগামী কিছু পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, ঝুঁকি তো থাকবেই। সে সময় আমাকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আমার নামে মামলা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দিনাজপুরের প্রতিবাদি মানুষ সেই সময়ে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে দিয়েছে। দিনাজপুরের মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে আমরা শান্তিপ্রিয় কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদকারী।

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –
Place your advertisement here
Place your advertisement here