বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

Find us in facebook
৪১

জুমার দিনের বিশেষ ৩ আমল

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৯  

জুমার দিনে মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল। এগুলো মধ্যে তিনটি আমল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর তাহলো-

(১) জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াত করা:

পবিত্র কোরআনুল কারিমের ১৫তম পারার ১৮নম্বর সূরা এটি। যদি কেউ সম্পূর্ণ সূরাটি তেলাওয়াত করতে না পারে তবে সে যেন এ সূরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করে।

> যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমা থেকে অপর (পরবর্তী) জুমা পর্যন্ত নূর হবে।

> যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, সে আটদিন পর্যন্ত সর্বপ্রকার ফেতনা থেকে মুক্ত থাকবে। যদি দাজ্জাল বের হয় তবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকেও মুক্ত থাকবে।

> এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার সব (কবিরা গোনাহ ব্যতিত) গোনাহ মাফ হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন>>> সূরা কাহাফ পাঠের ফজিলত

(২) জুমার দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা:

> জুমার দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ। যদি কোনো ব্যক্তি একবার দরূদ পড়ে তবে তার প্রতি ১০টি রহমত নাজিল হয়।

দরূদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ হচ্ছে ‘দরুদে ইব্রাহিম’; যা নামাজে পড়া হয়।

দরুদে ইব্রাহিমের আরবি, অর্থ, উচ্চারণ:

আরবি:

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌاللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيد

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা সাল্লেআ’লা মোহাম্মদাও ও আ’লা আলি মোহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আ’লা ইব্রাহিমা ও আ’লা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মোহাম্মাদেওঁ ও আ’লা আলি মোহাম্মদ, কামা বারকতা আ’লা ইব্রাহিমা ও আ’লা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ

অর্থ:

হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর এই রূপ রহমত নাজিল করো, যেমনটি করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করো, যেমন বরকত নাজিল করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।

(৩) জুমার দিন দোয়া কবুলের সময়:

 

পবিত্র জুমার দিনের আমলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এদিনে বিশেষ একটা মুহূর্ত আছে, তখন বান্দা তার রবের কাছে যা-ই চায়, প্রিয় রব দিয়ে দেন।

প্রিয় নবীজি (সা.) জুমার দিনের কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন,

فِيهِ سَاعَةٌ، لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي، يَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى شَيْئًا، إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ

‘এদিনে একটা সময় আছে, মুসলিম বান্দা একাগ্র হয়ে নাছোড়বান্দার মতো, আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করতে থাকলে, তিনি তাকে দিয়েই দেন। নবীজি (সা.) একথা বলার পর, হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে বুঝিয়েছেন, দোয়া কবুলের সেই সময়টা খুব দীর্ঘ নয়। স্বল্পমেয়াদী।’ (আবু হুরায়রা (রা.), বুখারি)।

তাহলে সময়টা কখন? এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামেরও কৌতূহল ছিল। বড় বড় সাহাবী এর অনুসন্ধান করেছেন। হাদিসে কয়েকটা সময় উল্লেখিত হয়েছে।

> প্রথম সময়:

ইবনে উমার (রা.) এর সঙ্গে দেখা হলো আবু বুরদার। জানতে চাইলেন,

> আপনার বাবা (আবু মুসা আশআরী (রা.)-কে জুমার দিনের বিশেষ সময় সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন?

> জি, শুনেছি। বাবা বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূলের (সা.) কাছে শুনেছি,

هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلاَةُ

সে সময়টা হলো, ইমাম মিম্বরে বসার পর থেকে সালাত সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত (মুসলিম ৮৫৩)।

> দ্বিতীয় সময়:

জুমার দিনের শেষ সময়।

يَوْمُ الجُمُعة ثِنْتَا عَشْرَةَ سَاعَةً ، لاَ يُوجَد فِيهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ الله شَيْئاً إِلاَّ آتَاهُ إِيَّاهُ ، فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ العَصْر

জুমার দিন বারো ঘণ্টা। (তার মধ্যে এমন বিশেষ এক ঘণ্টা বা মুহূর্ত আছে) তাতে কোনো মুসলিম বান্দা দোয়া করলে, আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেই নেন। তোমরা সে বিশেষ মুহূর্তকে, আসরের পরে (মাগরিবের আগে) শেষ সময়টাতে অনুসন্ধান কর (জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.), আবু দাউদ ১০৪৮)।

আরেক হাদিসে সময়টা আসরের পর থেকে সূর্য ডুবা পর্যন্ত বলা হয়েছে।

আমার নানা সমস্যা? আমি বিপদে আছি? পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ? আর্থিক অনটন প্রকট? সামাজিক বা রাজনৈতিক শত্রুরা কষ্ট দিচ্ছে? বিশেষ কোনো চাওয়া আছে? চাকুরি-বিয়ে-সন্তান?

জুমার দিন বসে যাই না!

জুমার সময় দুই খুতবার মাঝখানে, ইমাম যখন নিরব হয়ে বসেন? আসরের পর- মাগরিবের আজান হয়ে যাওয়া পর্যন্ত?

বিশেষ করে- জুমার দিন ও জুমার নামাজ আদায় মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক গুরুত্ব ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনের প্রতিটি আমলই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার নামাজ পরিত্যাগ করার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি (ইচ্ছা করে) অলসতাবশত তিনটি জুমা ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তায়ালা তার হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।’ (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুয়াত্তা মালেক)।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে জুমার নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। জুমার দিনের আমল ও করণীয়গুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন।

জুমার দিনে মর্যাদা ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সবাইকে মাফ করে দিন। আল্লাহুম্মা আমিন।

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –
Place your advertisement here
Place your advertisement here