ব্রেকিং:
দিনাজপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩৭৯ জনে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ।
  • বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৪ ১৪২৭

  • || ১২ সফর ১৪৪২

Find us in facebook
সর্বশেষ:
মানুষ যেন ভল থাকে সেই কাজটুকু যেন করতে পারি- প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে রংপুরে যুবলীগের খাবার বিতরণ দিনাজপুরে নতুন আরো ৫ জন করোনায় আক্রান্ত দেশ ভালোভাবে চলছে তাই বিএনপির এতো গাত্রদাহ- কাদের করোনা মোকাবেলায় মার্কেল জেসিন্ডাকে ছাড়িয়ে শেখ হাসিনা
১২৮

গ্রেনেড হামলার বিচার দেখার অপেক্ষায় রংপুরের রিজিয়ার দুই ছেলে     

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২০  

Find us in facebook

Find us in facebook

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত হন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গানারায়ণ গ্রামের রিজিয়া। তার পুত্র জন্মগত প্রতিবন্ধী। হারুন অর রশিদ (৩৮) ও ছোট ভাই প্রতিবন্ধী নুরু নবী (৩৩)। প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তায় এখন গাভী খামারী । এখন তার খামারে তিন টি দুধ দেয়া সহ ৭টি গাভী। আগে তারা দুই ভাই অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে বলে নুরুবীর স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান। তিনি বলেন, আমার স্বামী জন্মগত প্রতিবন্ধী। এখনো পর্যন্ত তার কোনো ভাতা হয়নি । প্রতিবন্ধী মোঃ নুরুন ন্নবী আরও জানান, উপজেলা প্রশাসন কেকে শুরু কওে জেলা প্রশাসনও তাদেও খোঁজ খবর নেন না।

এদিকে ষোল বছর গ্রেনেড হামলায় নিহত রিজিয়া বেগমের বিচার না হওয়ায় নিহত রিজিয়ার দুই সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত বিচার দাবী করেছেন। বড় ছেলে হারুন-অর- রশিদ বলেন ৩৮ বছর পরে হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার হয়েছে। আমার বিশ্বাস আমার মায়ের হত্যারও বিচার আমরা পাবো। তারা পুরো পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন শুধুই বিচার চান তারা। তিনি এ সরকারের আমলেই বিচার দাবী করে বলেন, বিচার হলেই তার মায়ের আত্মার শান্তি পাবেন।

রিজিয়ার বড় বোন আনোয়ারা বেগম বলেন, বাড়িত বসে শাড়ির আচল দিয়ে বারবার বোনের ছবি মুছি। আমরা এখন ভালো বিচার চাই।

কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গানারায়ণ গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের মেয়ে রিজিয়া বেগম ১৯৯০ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকা পাড়ি জমান। ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ইন্ডিয়ান ভিসা অফিসে ছবি লাগানোর কাজ করে তিনি। এই চাকুরী করে চলছিল তাদের পারিবারিক জীবন জীবিকা। একই সালে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের জন্য দেয়া হয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর পর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৮ লাখ টাকা দেয়া হয়। এরপর ২০১৯ সালে ২৪ লক্ষ টাকা দেয়া হয়। এখন তদের কোন অভাব নেই। তাদের চাওয়া শুধুই মায়ের বিচার।

৫ নং বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন-আগে কি হয়েছে জানি না। আমার আমলে রেজিয়ার পরিবার যাতে করে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পায় আমি সেই চেষ্টা করে যাবো।

সম্প্রতি রিজিয়া বেগমের বাড়ীতে গিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেয়েও অর্থ অভাবে বিনাচিকিৎসায় মারা গেছে রিজিয়ার বৃদ্ধ পিতা। তার বৃদ্ধ পিতা আফাজ উদ্দিন দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১০২বছর বয়সে মেয়ে হত্যার বিচার ও অনেকটা বিনা চিকিৎসায় গত ৩বছর আগে মৃত্যু বরণ করেছে। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তার ছোট বোন আনোয়ারা বেগম বেড়িয়ে এসে জানান, রিজিয়া নিহত হওয়ার পর আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এক লাখ টাকায় তিনি কাউনিয়ায় গঙ্গানারায়ণ গ্রামে ২৫ শতাংশ জমি কিনেছেন এবং সামান্য কিছু টাকা শেষ সম্বল হিসেবে ব্যাংকে রেখেছিলেন সে টাকাও বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিনের চিকিৎসার করাতে শেষ হয়েছে। আর মা রিজিয়ার মৃত্যুর শোকে পাঁচ বছর আগে মৃত বরণ করেছে। রিজিয়া বেঁচে থাকতে সংসারের জন্য কোন প্রকার চিন্তা ভাবনা করতে হয়নি তাদের। তিনি বলেন, স্বামীর অত্যাচার সইতে না পারায় রিজিয়ার সঙ্গে তার স্বামীর ডিভোর্স হয়ে যায় অনেক দিন আগে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার প্রতিবাদে ২১আগষ্ট দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে মহানগর আওয়ামীলীগের সমাবেশ ছিল। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। এ শান্তি মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার। মিছিল শুরুর আগ মুহূর্তে ট্রাকের ওপর নির্মিত খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র বিকেল ৫টা ২২মিনিটে তাকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরিত হয় ১৩টি গ্রেনেড। মৃত্যুর জাল ছিন্ন করে প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তার পরও শেখ হাসিনার গাড়িকে লক্ষ্য করে ১২টি গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। নারকীয় ওই হামলায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রিজিয়া বেগমসহ ২২জন প্রাণ হারান। আহত হন কয়েকশত নেতা কর্মী।

Place your advertisement here
Place your advertisement here
রংপুর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর