ব্রেকিং:
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন ৩ হাজার ২৩৪ জন। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৯১৮ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ২০ জন। রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) মেয়র মোস্তাফিজার রহমান ও তাঁর স্ত্রী জেলী রহমানের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
  • বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২০ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Find us in facebook
সর্বশেষ:
রাষ্ট্রনায়ক ও বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু বন্যার্তদের পাশে নেই কুড়িগ্রাম বিএনপি ‘রাজধানীর বিদ্যুতের লাইন পর্যায়ক্রমে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে’ ফুলবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশনগুলো সফল : এলজিআরডি মন্ত্রী
১৯

এক দশক আগের নিম্ন আয়ের দেশটি মধ্যম আয়ের পথে হাটছে আজ

– দৈনিক রংপুর নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০২০  

Find us in facebook

Find us in facebook

২০১০ থেকে ২০২০ সাল। কেমন গেল  এই দশক। বাংলাদেশের জন্য এই দশকটি ভালো ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনীতি এগিয়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির আলোচনায় স্থান করে নিয়েছে। আবার ভালোর বিপরীতে মন্দও কম ছিল না। সময়টা ছিল বড় প্রকল্পের। সরকারের আগ্রহ ছিল বড় প্রকল্পের দিকেই বেশি। আবার দশকটিকে বিনিয়োগ স্থবিরতার বছরও বলা যায়। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগের দিক থেকে। দেখা যাক কী কী ছিল শেষ বছর, শেষ দশকটিতে। 

উচ্চ প্রবৃদ্ধির দশক

২০১০-১১ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আর সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মাঝে কখনোই জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের নিচে নেমে যায়নি। সব মিলিয়ে শেষ হওয়া এই দশকের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। এমনকি বিশ্বের কম দেশেই এই হারে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে। 

দেশের প্রবৃদ্ধি দীর্ঘদিন ৫ শতাংশের মধ্যে আটকে ছিল। বিদায়ী দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তা আটকে ছিল ৬ শতাংশের মধ্যে। সেখান থেকে গেল ৭ শতাংশে। আর শেষ বছরে এসে তা হয়েছে ৮ শতাংশের বেশি।

প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৮২৫ ডলার। আর এখন সেই মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ ডলার। মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১০৬ শতাংশ। 

মধ্যম আয়ের দেশ

আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ আয়ের দেশ হয়েছে এ দশকেই। ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের তালিকায় নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। মূলত মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির বিবেচনায় বিশ্বব্যাংক এই তালিকা করে থাকে। শুরু থেকে বাংলাদেশ ছিল নিম্ন আয়ের দেশে। এখন সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ হওয়া। 

এখানে বলা রাখা ভালো, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল (ডেভেলপিং) দেশে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ পর্যালোচনা করবে ২০২১ সালে এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। 

সবুজ কারখানা

দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা ছিল পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে নির্মিত ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। এর উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধা। সময়টা ছিল ২০১২ সাল। সেই থেকে যাত্রা শুরু। তবে সবুজ কারখানা প্রতিষ্ঠায় উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বেশি বেড়েছে মূলত রানা প্লাজা ধসের পরে। এখন পর্যন্ত দেশে ৯৪টি পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা ও বস্ত্রকল হয়েছে। জুতা ও ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাণেও আছে পরিবেশবান্ধব কারখানা। এমনকি বাণিজ্যিক ভবনও। সব মিলিয়ে শত ছাড়িয়েছে।

বিশ্বে জিনস বা ডেনিম কাপড় উৎপাদন করার প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানা হচ্ছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় এনভয় টেক্সটাইল। নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে রেমি হোল্ডিংস বিশ্বের সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার একটি। আবার নারায়ণগঞ্জের প্লামি ফ্যাশনস হচ্ছে নিট পোশাক তৈরি করা বিশ্বের প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানা। গত দশকে এটিও বাংলাদেশের বড় অর্জন।

এগিয়ে থাকা সাতটি খাত

পোশাকশিল্পের ধারেকাছেও কেউ নেই। তবে এটি মূলত রপ্তানি খাত। তবে দেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চাহিদাও কম নয়। আর এই চাহিদা মেটাতে গত ১০ বছরে বেশ কিছু শিল্প খাতের প্রসার ঘটেছে বেশ বড় আকারেই। পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও তাদের হিস্যা বাড়ছে। সবার আগে নাম করতে হয় ওষুধশিল্পের। দেশের মোট চাহিদার ৯৭ শতাংশই পূরণ করছে দেশের ওষুধশিল্প। পাশাপাশি এক শর বেশি দেশে রপ্তানিও হচ্ছে। বড় বিনিয়োগের আরেকটি বড় খাত হচ্ছে ইস্পাত। বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে এই খাতে। একইভাবে দেশীয় সিমেন্টশিল্পেও দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাজার দখল করেছে। আর দেশের চাহিদা বাড়ায় দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে ইলেকট্রনিকস সিরামিক, মোটরসাইকেল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্প। গড়ে উঠেছে ওয়ালটন, প্রাণসহ বেশ কিছু দেশীয় ব্র্যান্ড।

বিকাশের বিকাশ 

মানুষের হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন। তবে গত দশকে এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা বলা বা বার্তা পাঠানোর চেয়েও আরও অনেক সুবিধা পেয়েছে সাধারণ মানুষ। তবে মানুষের জীবনকে সবচেয়ে সহজ করেছে মোবাইল ফোনভিত্তিক বিভিন্ন আর্থিক সেবা। আর এর মধ্যে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে বিকাশ। ২০১১ সালে এর প্রতিষ্ঠা। শুরুতে ছিল কেবল টাকা পাঠানো। আর এখন এটা দিচ্ছে অর্থ লেনদেনের নানা সুবিধা। বিলের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকার যন্ত্রণা বন্ধ করছে এই সেবা। আর এখন কেবল বিকাশ নয়, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ ধরনের আরও উদ্যোগ। এর মধ্যে নাম করতে হয় রকেট ও নগদের।

কমেছে দারিদ্র্য

দরিদ্র দেশ হিসেবেও বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের একটি পরিচয় আছে। কেননা, এখনো বিশ্বের যে কয়টা দেশে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষ বাস করে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বিশ্বের মোট দরিদ্র জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ মানুষ বাস করে এই বাংলাদেশেই। 

তবে দারিদ্র্য পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে গত দশকে।  গত দশকটি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতার পরপর ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত সাড়ে ৮২ শতাংশ মানুষ। ১৯৯১ সালে এই হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ২০১০ সালে এই হার কমে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ হয়েছে ২০১৬ সালে। ওই জরিপ অনুযায়ী দারিদ্র্য হার আরও কমে হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

Place your advertisement here
Place your advertisement here
উন্নয়ন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর